কালো কুচকুচে চুল পাওয়ার উপায়Natural Hair Pack: অল্প বয়সেই চুল পেকে যাওয়া এখন অনেকেরই সমস্যা। দূষণ, অনিয়মিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ বা পুষ্টির ঘাটতির কারণে অকালে সাদা চুল দেখা দিচ্ছে। অনেকেই ভরসা রাখছেন কেমিক্যাল হেয়ার ডাইয়ের উপর। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরোয়া কিছু প্রাকৃতিক উপায় নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের স্বাভাবিক রং ও স্বাস্থ্য অনেকটাই ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
চুল কালো করার অন্যতম জনপ্রিয় উপায় হল কারি পাতা ও মেথির হেয়ার প্যাক। নারকেল তেলে এক মুঠো কারি পাতা এবং এক চামচ মেথি দানা ফুটিয়ে নিতে হবে, যতক্ষণ না পাতা কালচে হয়। ঠান্ডা হলে সেই তেল স্ক্যাল্প ও চুলে ভাল করে মালিশ করে ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেললেই উপকার মিলতে পারে। এই মিশ্রণ চুলের গোড়া মজবুত করে এবং ধীরে ধীরে কালো আভা ফিরিয়ে আনে।
হেনা ও কফির প্যাকও সমান কার্যকর। চার চামচ হেনা পাউডার, দুই চামচ কফি পাউডার এবং পরিমাণমতো জল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে চুলে লাগিয়ে রাখতে হবে ২-৩ ঘণ্টা। এরপর শুধু জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। হেনা চুলকে কন্ডিশন করে, আর কফি গাঢ় রং এনে দেয়। ফলে চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়ে।
বিটরুটের রস ও কফির মিশ্রণ চুলে লালচে-কালো আভা আনতে সাহায্য করে। বিটরুটের রসের সঙ্গে কফি মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে শুকিয়ে নিতে পারেন। একইভাবে আমলকী ও মেথির গুঁড়ো জলে মিশিয়ে তৈরি পেস্টও চুল পাকা রোধে উপকারী। আমলকীর ভিটামিন সি চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং মেথি চুলের গোড়া শক্ত করে।
কালঞ্জি বা কালোজিরা ও কফির প্যাকও অকাল পাকা চুল ঢাকতে ব্যবহৃত হয়। দুই চামচ কালঞ্জি, এক চামচ কফি পাউডার এবং সামান্য সরষের তেল মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ৪৫-৬০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করলে ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া ঘন করে জ্বাল দেওয়া কফি ঠান্ডা করে তুলোর সাহায্যে চুলে লাগালেও রং গাঢ় হয়।
তবে মনে রাখতে হবে, এই সব ঘরোয়া উপায় চুল সাময়িকভাবে কালো আভা দেয় এবং চুলের পুষ্টি বাড়ায়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান নয়। সপ্তাহে ১-২ বার নিয়মিত ব্যবহার করলে উপকার মিলতে পারে। চুলের অতিরিক্ত ক্ষতি বা অ্যালার্জি থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।