কম খরচে বাড়িতেই হবে কোলাজেন পাউডারফিটনেস ও ত্বকের পরিচর্চা সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। আজকের দিনে অনেকেই ফিট বডি ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে চান। আর যে কারণে একাধিক ক্রিম ও টোনারের প্রচার হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে এই ট্রেন্ডে না ভেসে আপনার ত্বকের জন্য যেটা জরুরি, সেটাই করা দরকার। যদি আপনার ত্বক, শুষ্ক, প্রাণহীন ও বলিরেখায় ভরপুর হয়ে থাকে, তাহলে বুঝবেন আপনার ত্বকে কোলাজেনের অভাব রয়েছে। কোলাজেন আমাদের শরীরের জরুরি উপাদান, যা অনেকভাবে শরীরে কাজ করে। কোলাজেন খুবই জরুরি। কারণ এটা ছাড়া মুখে উজ্জ্বলতা ফেরে না। মার্কেটে কোলাজেন পাউডার খুবই দামি, সকলের সাধ্যের মধ্যে নয়।তবে ঘরেই এই কোলাজেন বুস্টিং পাউডার তৈরি করে নিতে পারেন। এই পাউডার নিয়মিত ব্যবহার আপনার ত্বকের জন্য যুগান্তকারী হতে পারে। এই পাউডারটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি এবং এটি ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়।
কোলাজেন কেন গুরুত্বপূর্ণ
কোলাজেন হলো এক প্রকার প্রোটিন যা আমাদের ত্বককে টানটান, মসৃণ এবং তারুণ্যময় রাখে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এর উৎপাদন কমে যায়, যার ফলে ত্বকে বলিরেখা, ত্বক ঝুলে যাওয়া ও অনুজ্জ্বল দেখায়। তাই ডায়েটে এমন কিছু খাবার যোগ করুন, যা কোলাজেন বাড়ায়। এই কোলাজেন বুস্টিং পাউডার আপনার খুবই কাজের।
ঘরোয়া কোলাজেন পাইডার
এই ঘরে তৈরি পাউডারটি বানাতে আপনার কিছু সুপারফুড লাগবে। কিন্তু চিন্তা করবেন না, বেশিরভাগ উপাদানই আপনার রান্নাঘরে সহজেই পাওয়া যায়।
উপকরণ
-বিটরুট পাউডার (ত্বকে প্রাকৃতিক আভা দেয়)।
-আমলকী গুঁড়ো (ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, কোলাজেন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে)
-তিসি (ত্বককে আদ্র রাখে)
কুমড়োর বীজ (জিঙ্কের একটি ভাল উৎস)
-তিল (তামা সমৃদ্ধ, স্বাস্থ্যকর ত্বক গঠনে সহায়ক)
-হলুদ (প্রদাহ কমিয়ে সুরক্ষা দেয়)
কীভাবে তৈরি করবেন
একটি পাত্রে ২ চা চামচ বিটের গুঁড়ো, ১ চা চামচ করে আমলকির গুঁড়ো, তিসির গুঁড়ো ও কুমড়োর বীজের গুঁড়ো, আধা চা চামচ তিলের গুঁড়ো এবং এক চিমটি হলুদ নিন। সবকিছু ভালোভাবে মিশিয়ে একটি এয়ারটাইট কাচের জারে সংরক্ষণ করুন। এই মিশ্রণটি আপনি ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
প্রতিদিন সকালে অথবা দিনের যে কোনও সময় এই পাউডারটি ১ চা চামচ হালকা গরম জলে, স্মুদি, লস্যি বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে নিন।
এর স্বাদ কিছুটা বাদামের মতো ও মাটির গন্ধযুক্ত, কিন্তু এর স্বাস্থ্য উপকারিতা অপরিসীম।
কখন প্রভাব দেখা দেবে
এটি প্রতিদিন ব্যবহার করলে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যেই আপনার ত্বকের রঙ ও উজ্জ্বলতায় একটি লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখতে পাবেন। এই পাউডারটির আরেকটি ভাল দিক হলো, এটি আপনার চুল ও নখকেও মজবুত করে।
-সর্বদা টাটকা এবং ভাল মানের উপাদান ব্যবহার করুন।
-অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।
-আপনার কোনো অ্যালার্জি থাকলে, প্রথমে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।