সম্পর্ক নিয়ে টিপস বদলে যাওয়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণও বদলাচ্ছে। প্রেমের বা বিয়ে পরবর্তী ক্ষেত্রেও সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত থাকছে অনেকের জীবনে। সমাধান সূত্র খুঁজে পেতে অনেকে নানা জনের পরামর্শও নেন। কিন্তু সম্পর্কের কিছু ছোটখাটো বিষয় মাথায় রেখে এবং দৃষ্টিভঙ্গিতে সামান্য পরিবর্তন আনলেই পার্টনারকে খুশি রাখা ও সম্পর্ককে মজবুত করা সম্ভব। কিছুদিন আগে রিলেশনশিপ এক্সপার্ট ও লেখিকা সীমা আনন্দ একটি পডকাস্টে এসে আধুনিক সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস শেয়ার করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, পুরুষরা কীভাবে নিজেদের পার্টনারকে খুশি রাখতে পারেন।
১. পার্টনার আপনার থেকে আলাদা, এটা মেনে নিতে হবে
সীমা আনন্দের মতে, অনেক পুরুষই ভাবেন, 'আমি যদি ওর জায়গায় হতাম, তাহলে এমনটা করতাম না', এই মানসিকতা বদলানো জরুরি। প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আপনার পার্টনার আপনার মতো নাও হতে পারেন, এটা মেনে নেওয়া। কারণ, প্রত্যেক মানুষের চিন্তাভাবনা, জীবনযাপন এবং আবেগ প্রকাশের ধরন আলাদা। তাই পার্টনারকে নিজের মতো বানানোর চেষ্টা না করে বরং বোঝার চেষ্টা করুন, সে আপনার থেকে কীভাবে আলাদা। পার্থক্যগুলো বুঝতে পারলেই তাকে সঠিকভাবে অ্যাপ্রোচ করা সম্ভব।
২. সম্পর্কের খাতিরে ঝুঁকে পড়া দুর্বলতা নয়
অনেকে মনে করেন, যদি তিনি পার্টনারের কথা মেনে নেন বা ভুল স্বীকার করেন তাহলে দুর্বলতা প্রকাশ পাবে। কিন্তু এই ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। সম্পর্ক ঠিক রাখা বা পার্টনারকে বোঝার চেষ্টা করতে পারলে নিজেরই লাভ। ভালো সম্পর্ক মানে মানসিক শান্তি ও সুখ, যার প্রভাব পড়ে নিজের জীবনে।
৩. মেসেজ করবেন মন দিয়ে
কথোপকথনের ক্ষেত্রে মহিলারা সাধারণত বিস্তারিতভাবে বিষয় বোঝাতে ও বুঝতে পছন্দ করেন। যেখানে পুরুষরা একটি মেসেজ সরাসরি পড়েন, কম বোঝাতে পছন্দ করেন। কিন্তু এটা সম্পর্কের জন্য ভালো নয়। অনেক পুরুষ সামনাসামনি কথা বলতেও অস্বস্তি বোধ করেন। সেক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেক্সট মেসেজ অনেক সময় কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। মেসেজের মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা, হালকা ফ্লার্ট করা এবং ভালোবাসার কথা জানানো সম্পর্কে আরও গভীরতা আনে।
৪. নতুন আগ্রহ তৈরি করুন
অনেক সময় দেখা যায়, ছেলেরা কাজের জায়গা থেকে ফিরে অল্প কথায় কাজ সারেন। অন্যদিকে মেয়েরা বিস্তারিতভাবে দিনভর কী ঘটেছে তা শেয়ার করতে পছন্দ করেন। ভালো ‘কনভারসেশনালিস্ট’ হতে চাইলে বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহ তৈরি করা জরুরি। নতুন কিছু শেখা, নতুন বিষয়ে পড়াশোনা বা অভিজ্ঞতা অর্জন করলে পার্টনারের সঙ্গে শেয়ার করার মতো বিষয় বাড়ে। এতে সম্পর্ক কখনও একঘেয়ে হয়ে ওঠে না।
৫. আন্দাজ নয়, সরাসরি প্রশ্ন করুন
সম্পর্কে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় ‘অ্যাসাম্পশন’ বা আন্দাজ থেকে। না জেনে নিজে নিজে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর বদলে সরাসরি কথা বলাই উত্তম। যদি কোনও সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে অনুমান না করে খোলাখুলি আলোচনা করুন। অনেক সময় শুধু কথা বললেই অর্ধেকের বেশি সমস্যা মিটে যায়। সীমা আনন্দের কথায়, সম্পর্কের ওঠাপড়া স্বাভাবিক—তাই ধৈর্য ও শান্ত মন নিয়ে পরিস্থিতি সামলানোই সঠিক পথ।