প্রতীকী ছবি Healthy Foods Tips: শরীর সুস্থ রাখতে শুধু ডায়েট মেনে চললেই হবে না, নজর দিতে হবে রান্নাঘরের দিকেও। অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু খাবার আমরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখি, যা ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি ডেকে আনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে চাইলে প্রথমেই রান্নাঘর থেকে কিছু অস্বাস্থ্যকর খাবার সরিয়ে ফেলা জরুরি।
সবচেয়ে আগে বাদ দিতে হবে ‘রেডি টু ইট’ খাবার। ব্যস্ত জীবনে অনেকেই নুডলস, পাস্তা বা প্যাকেটজাত খাবারের উপর নির্ভরশীল। এগুলিতে থাকে উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম, ময়দা, শর্করা ও প্রিজ়ারভেটিভ। নিয়মিত এই ধরনের খাবার খেলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, প্রদাহ বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুখের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিস্কুট, কেক বা প্রোটিন বারও একই কারণে এড়িয়ে চলাই ভালো।
স্বাস্থ্যকর ভেবে অনেকেই ব্রাউন ব্রেড বেছে নেন। কিন্তু বাজারে পাওয়া অধিকাংশ ব্রাউন ব্রেডই ময়দা দিয়ে তৈরি, শুধু রং বদলাতে সিন্থেটিক বাদামি রং ব্যবহার করা হয়। ফলে তা সাদা পাউরুটির মতোই ক্ষতিকর হতে পারে। একইভাবে কর্নফ্লেক্স বা মুসেলির মতো প্যাকেটজাত ব্রেকফাস্ট সিরিয়ালেও অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত উপাদান থাকে।
রান্নার তেল নির্বাচনেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। রিফাইন্ড ভেজিটেবল অয়েলে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকায় তা শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে। দীর্ঘদিন এই তেল ব্যবহার করলে কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই তেলের ক্ষেত্রে বিকল্প ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায় বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।
টকদই শরীরের জন্য উপকারী হলেও ফ্লেভার্ড দই তেমন নয়। এগুলিতে কৃত্রিম স্বাদ ও অতিরিক্ত চিনি মেশানো থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তেমনই পিৎজা, চাউমিন বা প্যাকেটজাত স্ন্যাকসে অতিরিক্ত সোডিয়াম থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
সুস্থ জীবনযাপনের প্রথম ধাপ শুরু হয় হেঁশেল থেকেই। তাই সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়ে রান্নাঘরকে স্বাস্থ্যবান্ধব করে তুলুন। তবেই মিলবে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার চাবিকাঠি।