ডায়েটে এবার ‘মাইক্রোগ্রিন’ ম্যাজিক, মাটি ছাড়াই ঘরে ফলান এই খুদে চারাGrow Microgreens At Home Without Soil: শরীরই আসল সম্পদ। করোনাকালের পর এই আপ্তবাক্যটি বাঙালির মনে গেঁথে গিয়েছে। তাই তো ভোজনরসিক বাঙালি এখন স্বাদ বদলিয়ে ঝুঁকেছে পুষ্টির দিকে। স্বাস্থ্য সচেতনদের অন্দরমহলে এখনকার নতুন ‘ক্রেজ’ হলো মাইক্রোগ্রিন। মুগ, মেথি, সরষে কিংবা চিয়াবীজ থেকে গজিয়ে ওঠা মাত্র ২-৩ ইঞ্চির এই কচি চারাগুলি আসলে পুষ্টির খনি। পুষ্টিবিদদের মতে, অঙ্কুরোদ্গমের ফলে এই চারাগুলিতে আয়রন, জিঙ্ক ও ক্যালশিয়াম শোষণের ক্ষমতা সাধারণ সবজির তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রতিদিনের স্যালাড, স্যুপ কিংবা স্যান্ডউইচে সামান্য এই মাইক্রোগ্রিন মিশিয়ে নিলেই কেল্লাফতে! শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি মেটাতে এর জুড়ি মেলা ভার।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই মহার্ঘ্য পুষ্টির জন্য আপনাকে বাজারের ওপর নির্ভর করতে হবে না। উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স হোক বা কলকাতার ঘিঞ্জি ফ্ল্যাট। নিজের একফালি জানালার ধারেই মাটি ছাড়া স্রেফ জল দিয়ে ফলিয়ে নেওয়া যায় এই মাইক্রোগ্রিন। পদ্ধতিটিও অতি সহজ। পছন্দমতো বীজ ৫-৮ ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে নিয়ে একটি ছিদ্রযুক্ত ট্রে বা ছাঁকনিতে পাতলা সুতির কাপড় বিছিয়ে ছড়িয়ে দিন। ট্রের নিচে একটি পাত্রে জল এমনভাবে রাখুন যাতে বীজগুলো স্রেফ ভিজে থাকে, ডুবে না যায়। প্রথম কয়েকদিন সরাসরি রোদ থেকে দূরে রেখে দিনে দু’বার জল স্প্রে করলেই কেল্লাফতে। ৫-৭ দিনের মাথায় চারাগুলো ২-৩ ইঞ্চি লম্বা হলেই কাঁচি দিয়ে গোড়া থেকে কেটে পরিবেশন করুন টাটকা পুষ্টি।
তবে এই খুদে বাগান তৈরির ক্ষেত্রে সামান্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। চারাগাছগুলিতে যাতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে; অন্যথায় ছত্রাক জন্মানোর ভয় থাকে। আবার কড়া রোদে রাখলে কচি চারা শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। তাই পাত্রের জল প্রতিদিন বা একদিন অন্তর বদলে ফেলুন যাতে শিকড়ে পচন না ধরে। আধুনিক অন্দরসজ্জায় যেমন এই সবুজ চারাগুলি ঘরকে সতেজ রাখে, তেমনই আপনার অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যকেও দেবে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা। চৈত্র মাসের এই গরমে শরীরকে ঠান্ডা ও রোগমুক্ত রাখতে মাইক্রোগ্রিনই হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী।