সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই ভাত হতে পারে একেবারে সাদা, লম্বারোজকার খাবারের তালিকায় ভাত না থাকলে অনেকেরই যেন খাওয়াই সম্পূর্ণ হয় না। কিন্তু বাড়িতে ভাত রান্না করলেও অনেক সময় তা ঠিকমতো ঝরঝরে হয় না, দানা ছোট বা লেগে যায়। অথচ সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই ভাত হতে পারে একেবারে সাদা, লম্বা আর আলাদা আলাদা দানার; ঠিক রেস্তোরাঁর মতো। কী ভাবে সম্ভব? জেনে নিন সহজ কিছু কৌশল।
প্রথমেই নজর দিতে হবে চাল বাছাইয়ে। ভালো মানের বাসমতি বা লম্বা দানার চাল ব্যবহার করলে ভাত স্বাভাবিকভাবেই একটু লম্বা ও ঝরঝরে হয়। তবে সাধারণ চালেও এই ফল পাওয়া সম্ভব, যদি রান্নার আগে সঠিক ভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
রান্নার আগে চাল ধোওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত ৩-৪ বার জল দিয়ে চাল ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এতে চালের উপরের অতিরিক্ত স্টার্চ বেরিয়ে যায়। এই স্টার্চই ভাত লেগে যাওয়ার অন্যতম কারণ। ধোওয়ার পর অন্তত ২০-৩০ মিনিট চাল ভিজিয়ে রাখলে দানা আরও লম্বা হয় এবং ভাত ফোলাফোলা হয়।
জলের পরিমাণও ভাতের গুণমান নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেয়। সাধারণত ১ কাপ চালের জন্য ১.৫ থেকে ২ কাপ জল যথেষ্ট। অতিরিক্ত জল দিলে ভাত নরম হয়ে যায় এবং দানা ভেঙে যেতে পারে। আবার কম জল দিলে ভাত কাঁচা থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সঠিক অনুপাত বজায় রাখা জরুরি।
রান্নার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস হল; জলে সামান্য লেবুর রস বা এক চা চামচ তেল বা ঘি মিশিয়ে দেওয়া। এতে ভাতের দানা আলাদা থাকে এবং রঙও আরও সাদা দেখায়। অনেকেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করেন ভাতকে আকর্ষণীয় করে তুলতে।
ভাত হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে না নাড়িয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখাই ভাল। এতে ভাপের মধ্যে ভাত আরও ফুলে ওঠে। পরে কাঁটা চামচ দিয়ে হালকা করে নাড়লে দানা ভাঙে না এবং ঝরঝরে থাকে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আঁচ নিয়ন্ত্রণ। খুব বেশি আঁচে ভাত রান্না করলে নিচে পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, আবার খুব কম আঁচে রান্না করলে ঠিকমতো সেদ্ধ হয় না। মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে রান্না করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
এই সহজ টিপসগুলি মেনে চললে প্রতিদিনের ভাতও হয়ে উঠতে পারে একেবারে নিখুঁত; সাদা, লম্বা এবং ঝরঝরে। রান্নার ছোটখাটো কৌশলই বদলে দিতে পারে খাবারের স্বাদ ও পরিবেশন।