
বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কলকাতার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শহরের মোট ৮৩ জন দুষ্কৃতীকে ‘দাগি’ বা সম্ভাব্য ‘ট্রাবল মঙ্গার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে লালবাজার। কলকাতা পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। মূলত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনার তথ্য, পরিসংখ্যান এবং পুলিশের চার্জশিটের ভিত্তিতেই এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
যদিও এখনও রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি, তবু নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থানকে মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। শনিবার প্রথম পর্বের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরই এই তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। আপাতত ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কলকাতা শহরে মোট ৮৩ জন দুষ্কৃতীকে ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চিহ্নিত ওই ৮৩ জনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৬৪ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৯ জনের বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই পদক্ষেপ করা হবে। লালবাজারের রিপোর্ট অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ‘দাগি’ দুষ্কৃতী ধরা পড়েছে কলকাতার বেহালা ডিভিশন এবং সাউথ-ইস্ট ডিভিশনে, এই দুই এলাকায় ১১ জন করে দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার পরেই রয়েছে বৃহত্তর কলকাতার ভাঙড় এবং ইস্ট ডিভিশন, যেখানে ১০ জন করে দুষ্কৃতীর নাম উঠে এসেছে।
কলকাতা পুলিশের এক সূত্রের কথায়, ভোট যত এগিয়ে আসবে, এই তালিকা আরও বড় হতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে দুষ্কৃতীদের সক্রিয়তা বাড়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই আগাম ব্যবস্থা নিতে চাইছে পুলিশ।
এদিকে, ভাঙড়-সহ বৃহত্তর কলকাতা এলাকায় ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে লালবাজার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা ‘দাগি’ দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে শুধু হুলিয়া জারি নয়, প্রয়োজনে তাদের সম্পত্তি ক্রোক করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বহুদিন ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকা জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা (NBW) কার্যকর করতে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে লালবাজার থেকে কলকাতা পুলিশের সমস্ত ডিভিশনের ডিসিদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী ইতিমধ্যেই বিভিন্ন থানায় আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও খবর, খুব শিগগিরই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই শহরের প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকায় সক্রিয় ‘দাগি’ দুষ্কৃতীদের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছিল। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে ভোটের সময় হাঙ্গামা বাধানোর অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬, ১২৭, ১২৮ এবং ১২৯ ধারায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়াও এখন প্রায় শেষের পথে।