Madan Vs Debangshu: 'বিরাট বিরাট মিছিল করে...', 'মমতার অসম্মান' নিয়ে মদন বনাম দেবাংশু

'সব জায়গায় যদি সুব্রত বক্সী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা দলনেত্রীর নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করে থাকি তাহলে এটা মনে হয় সব সময় সঠিক নয়'। মদনকে পাল্টা দেবাংশুর।

Advertisement
'বিরাট বিরাট মিছিল করে...',  'মমতার অসম্মান' নিয়ে মদন বনাম দেবাংশু দেবাংশু ভট্টাচার্য বনাম মদন মিত্র
হাইলাইটস
  • 'একটা অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত পার্টি আমাদের দল।'
  • দেবাংশুদের জবাব মদনের।

'বিদেশের মাটিতে মুখ্যমন্ত্রীকে অসম্মান করা হল। ছাত্র যুবরা কোথায়? কোথায় প্রতিবাদ কর্মসূচি?' দলের একাংশের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্রা। দেবাংশু রীতিমতো নেটমাধ্যমের পোস্টে লিখেছেন,'আপনারা কেন যুদ্ধের সময় চুপ থাকেন? আপনারা কেন লড়াইয়ের সময় পড়ে পড়ে ঘুমোন? অসময়ে কোথায় হারিয়ে যান? এলাকায় একটা মিছিল বার করেন না কেন?' এ নিয়ে এবার মুখ খুললেন তৃণমূলের বিধায়ক মদন মিত্র

মদন বলেন,'একটা অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত পার্টি আমাদের দল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই দিয়েছেন তিনিই শেষ কথা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো সব জায়গায় নির্দেশিকা দিয়ে বলছেন কোনটা করতে হবে কোনটা করতে হবে না। এখানে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে কী দলকে বিড়ম্বনায় ফেলব! দল থেকে কোনও নির্দেশ নেই।' 

পাল্টা দিয়েছেন তৃণমূলের তরুণ নেতা দেবাংশু। বলেন,''সব জায়গায় যদি সুব্রত বক্সী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা দলনেত্রীর নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করে থাকি তাহলে এটা মনে হয় সব সময় সঠিক নয়। কারণ দল কোথাও বলেনি যে আমাদের নির্দেশের বাইরে কোনও কর্মসূচি নেওয়া যাবে না।'

এদিকে, দেবাংশুদের খোঁচা দিতে ছাড়েননি মদন। তাঁর কথায়,'ওঁরা নিশ্চয় নেমেছিলেন তাই বলছেন। বিরাট বিরাট মিছিল করে দেবাংশু বা কল্য়াণ নিশ্চয় রাস্তায় ছিল, তাই ওরা বলতে পারে। যাঁরা করেছে তাঁরা বলতে পারে। আমি তো করিনি। আমি কী করে বলব? আমি মনে করি মমতা বা নিদেনপক্ষে অভিষেকের নির্দেশ ছাড়া একজন পার্টি কর্মী হিসাবে আমি কিছু করতে পারি না।'

ফেসবুকে কী লিখেছেন দেবাংশু?

তিনি লেখেন,'জনপ্রতিনিধি এবং পদাধিকারীদের কাছে অনুরোধ, দয়া করে নেত্রীর অসম্মানের সময় অন্তত মুখ খুলুন। এই নেত্রী এবং দলের অনুমোদনই আপনি, আমি আজ কেউ নির্বাচিত সদস্য, কেউ বা বড় পদের অধিকারী। এই নেত্রীর জন্যেই আজ আমাকে, আপনাকে লোক চিনেছে, জিতিয়েছে। দল আপনাকে কঠিন সময়ে দেখেছে, এগিয়ে দিয়েছে। আপনারা কেন যুদ্ধের সময় চুপ থাকেন? আপনারা কেন লড়াইয়ের সময় পড়ে পড়ে ঘুমোন? অসময়ে কোথায় হারিয়ে যান? এলাকায় একটা মিছিল বার করেন না কেন? সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা পোস্ট করেন না কেন? অনুষ্ঠানের সময় তো মঞ্চে ইয়া বড় বড় ফুলের বুকে আর লম্বা লম্বা উত্তরীয় গলায় ঝোলাতে দুবার ভাবেন না! পদের দাবি জানানোর সময় তো গলার জোরে গগন ভেদ করার জোগাড় হয়.. কিন্তু যুদ্ধের সময়? মৌনব্রত? সব ইস্যুতে দল কিংবা মন্ত্রীরা বলে দেবে, তারপর নামতে হবে? প্রতিবার উপর থেকে আসা কর্মসূচির অপেক্ষা করতে হবে? নেত্রীকে অসম্মান করলে গায়ে জ্বালা ধরে না? তখনও নির্দেশ আসার অপেক্ষা করতে হয়? নিজে থেকে একটা মিছিল কিংবা একটা পথসভা করলে কি দল আপনাকে তাড়িয়ে দেবে? পার্টি অফিস গুলোতে যে শতশত চামচাদের নিয়ে বসে থাকেন, যাদেরকে দিয়ে শুধুমাত্র নিজের সঙ্গে সেলফি কিংবা আপনার ড্রেন উদ্বোধনের ছবি পোষ্ট করান, এসব ইস্যুতে তাদের দিয়ে একটা করে ফেসবুক, টুইটারে পোষ্ট তো করাতে পারেন অন্তত!পারেন না?'

Advertisement

POST A COMMENT
Advertisement