সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হওয়ার পরই বিশেষ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন রায় ঘোষণার পরই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে নবান্নে তলব করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সাংবাদিকের মুখোমুখি হন তিনি। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "বিচারব্যবস্থার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান আছে। কোনও বিচারপতির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। আমিও আইনজীবী হিসেবে আমিও মামলা লড়েছি। পেশাদার হিসেবে না হলেও, মানবাধিকার এবং পড়ুয়াদের নিয়ে মামলা লড়েছি। কিন্তু দেশের নাগরিক হিসেবে আমার অধিকার আছে, আমি বিচারপতিকে সম্মান করেই বলছি, এই রায় মেনে নিতে পারছি না। আমি সমালোচনা না করলেও, রায় নিয়ে মতামত জানাতেই পারি মানবিকতার খাতিরে। আশাকরি বিকৃত করবে না, ভুল তথ্য ছড়াবেন না।"
কোর্টের রায়ের অংশ পড়েও শোনান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, “আত্মরক্ষার জন্যেও তো সুযোগ দেওয়া উচিত। এতগুলো শিক্ষকের ভবিষ্যৎ! ভুলে যাবেন না, এরা সবাই স্কুলের শিক্ষক। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দেওয়া কি বিজেপির টার্গেট?” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “এই মামলায় তো তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীকে জেলে রেখে দেওয়া হয়েছে, অনেক দিন হয়ে গেল! এক জনের অপরাধে কত জনের শাস্তি হয়?” তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “ওরা বলেছে তিন মাসের মধ্যে প্রসেস করতে, আমরা তা করে দেব। শিক্ষামন্ত্রীকে ইতিমধ্যে বলেছি, এসএসসিকে আমাদের ভাবনা জানাতে। এসএসসি স্বশাসিত সংস্থা। ওরা যেমন ভাল বুঝবে, নিজেদের মতো করে করবে। তবে আমরা চাই এটা তাড়াতাড়ি হয়ে যাক।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদের বিজেপি ও সিপিএম-এর চক্রান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন বাতিল হওয়াদের মধ্যে ১১,৬১০ জন নবম ও দশম শ্রেণিতে পড়াতেন। আর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াতেন ৫,৫৯৬ জন। এঁদের মধ্যে অনেকেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের খাতা দেখছেন। বাম আমলে চিরকূটে চাকরি হত। এদিন মুখ্যমন্ত্রী একযোগে নিশানা করেন বাম-বিজেপিকে। নাম করে তোপ দাগেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদারের উদ্দেশে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”বিকাশবাবু কেস করেছিলেন। তাঁর জন্যই আজ এতগুলো চাকরি গেল। উনি তো বিশ্বের বৃহত্তম আইনজীবী। কেন যে নোবেল প্রাইজ পাচ্ছেন না এখনও… আমি ভাবছি, একটা রেকমেন্ড করব।” এর আগেও একাধিকবার চাকরিতে নিয়োগ জটিলতার জন্য বিকাশরঞ্জনবাবুকে দুষেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও ব্যতিক্রম হল না। তবে এদিন মমতার তোপ দাগলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতিকেও। বললেন, ”এই চাকরি বাতিলের পর সুকান্তবাবু বলছেন, অযোগ্য সরকার অযোগ্যদের চাকরি দিয়েছে। আমাকে টার্গেট করে বলছেন! কেন? আমরা কোন অযোগ্য কাজ করেছি? কে যোগ্য? উনি যোগ্য?” ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের জন্য এবার সরাসরি বাম-বিজেপিকে দায়ী করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএম-বিজেপিকে এক বন্ধনীতে রেখে আক্রমণের সুর চড়িয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "স্কুলগুলোর কী হবে? বাংলাকে আর কত টার্গেট করবেন?" খানিক থেমে জবাবও দিয়েছেন, "ওরা এসব করে বাংলার শিক্ষার মান নামিয়ে দিতে চাইছে না তো!"