
সম্প্রতি সোশ্য়াল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি পোস্টকার্ডের মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে, অন্ধ্র প্রদেশে নাকি মন্দির ভেঙে সন্ত্রাস ছড়াতে গিয়ে বিজেপি ও টিডিপি নেতারা গ্রেফতার হয়েছে এবং মিডিয়া এই খবর চেপে রেখেছে।
গত ২৫ মার্চ পোস্ট করা এই কার্ডে এক পুলিশ আধিকারিক ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি রয়েছে। সঙ্গে লেখা হয়েছে, "মন্দির ভেঙে সন্ত্রাস ছড়াতে গিয়ে ফেসে গেলো বিজেপি অন্ধ্রপ্রদেশের মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় যুক্ত থাকার অপরাধে ১৩ জন বিজেপি ও টিডিপি কর্মীকে গ্রেফতার করলো পুলিশ। প্রেস কনফারেন্স করে DGP গৌতম সারাং ঘোষণা করলেন মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় বিজেপি ও টিডিপি কর্মীরাই জড়িত।"
এরপর আরও লেখা হয়েছে, "এবার বুঝুন - সারা দেশে ধর্মের টুপি পরিয়ে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে কারা। এই খবর বিজেপির দালাল মিডিয়া চেপে রেখেছে।" ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, "এই খবর ভাইরাল হবেনা জানি।"
অর্থাৎ, এখানে দাবি করা হয়েছে যে এই ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে এবং এই বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে কোনও খবর প্রকাশ পায়নি।
আজতক ফ্যাক্ট চেকে উঠে এসেছে যে ঘটনাটি পাঁচ বছর পুরনো এবং সেই সময় বেশিরভাগ মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে এই সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করা হয়েছিল।
যেভাবে জানা গেল সত্যি
এই সংক্রান্ত কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে সবার প্রথম এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট এনডিটিভি-তে পাওয়া যায়। এই রিপোর্ট প্রকাশ পেয়েছিল ২০২১ সালের ১৫ জানুয়ারি। সেই রিপোর্টে অন্ধ্র প্রদেশের তৎকালীন পুলিশ প্রধান গৌতম সাওয়াং-কে উদ্ধৃত করে লেখা হয়, সেই সময় মন্দিরে হামলা এবং মিথ্যে খবর ছড়ানোর অভিযোগে ২০ জন বিজেপি এবং টিডিপি কর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সেই সময় অন্ধ্র প্রদেশের মসনদে ছিল ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি এবং মুখ্য়মন্ত্রী ছিলেন জগনমোহন রেড্ডি। এই গ্রেফতারির পর রাজ্যের পুলিশ প্রধানকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি টিডিপি ও বিজেপির মতো বিরোধী শিবির। অভিযুক্ত ২০ জন বিজেপি ও টিডিপি কর্মীর মধ্যে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হলে টিডিপির পক্ষ থেকে পুলিশ প্রধান গৌতম সাওয়াংকে ওয়াইএসআরসিপি-র মুখপাত্র বলেও আক্রমণ করা হয়।
সেই সময় এই সংক্রান্ত খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও দ্য হিন্দুর মতো সংবাদ মাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়েছিল।
অন্ধ্র প্রদেশে নানা মন্দিরে হামলা ও মূর্তি ভাঙার এই ঘটনাগুলি অবশ্য ২০২০ সাল থেকেই চলছিল। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ডেকান হেরাল্ডে প্রকাশিত একটি রিপোর্টেও রাজ্যের ডিজিপি বা পুলিশ প্রধান গৌতম সাওয়াংয়ের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। যেখানে তিনি বলেন, কেউ কেউ স্বার্থসিদ্ধির জন্য ভাঙচুরের ঘটনাগুলিকে সাম্প্রদায়িক মোড় দেওয়ার চেষ্টা করছে।
২০২১ সালের ১৫ জানুয়ারির দ্য নিউজ মিনিটের একটি খবর থেকে জানা যায়, মোট ৯টি ভাঙচুরের মামলায় ৪ জন বিজেপি কর্মী ও ১৫ জন টিডিপি কর্মীর নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এদের মধ্য়ে বেশিরভাগই গ্রেফতার হয়। এই সংক্রান্ত খবর দ্য প্রিন্টেও দেখা যাবে।
ফলে বোঝাই যাচ্ছে যে ২০২১ সালের একটি ঘটনাকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে সংবাদ মাধ্যম এই সংক্রান্ত খবর চেপে গিয়েছিল, যা আদতে সত্যি নয়।
সম্প্রতি অন্ধ্র প্রদেশে মন্দির ভাঙার অভিযোগে ১৩ বিজেপি ও টিডিপি কর্মী গ্রেফতার হয়েছে কিন্তু মিডিয়া এই খবর চেপে গিয়েছে।
এই খবর কোনও সাম্প্রতিক ঘটনার নয় বরং ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের। সংবাদ মাধ্যমেও এই সংক্রান্ত খবর প্রকাশ পেয়েছিল।