ফ্যাক্ট চেক: সার্বিয়ায় সরকার-বিরোধী বিক্ষোভের দৃশ্যকে ফিলিস্তিনের সমর্থনে আন্দোলন বলে প্রচার 

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে উভয় দাবিই ভুল। ভিডিওটি তুরস্ক বা ইরান, কোনও দেশেরই নয় এবং এই জনসমাগমের সঙ্গে প্যালেস্তাইনের কোনও সম্পর্ক নেই। 

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: সার্বিয়ায় সরকার-বিরোধী বিক্ষোভের দৃশ্যকে ফিলিস্তিনের সমর্থনে আন্দোলন বলে প্রচার 

যুদ্ধবিরতি প্রত্যাহার হওয়ার পর থেকেই নতুন করে ইজরায়েল হামলা চালানো শুরু করেছে গাজা স্ট্রিপে। গত এক সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে ৭০০-র বেশি গাজাবাসীর। যার মধ্যে শামিল শিশু ও মহিলারা। এই আবহে নতুন করে ইসলামিক দেশগুলিতে গাজা অথবা প্যালেস্তাইনের সমর্থনে নানা কর্মসূচি নিতে দেখা যাচ্ছে। 

এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিন্ন দুই দাবিতে ভাইরাল হচ্ছে একটি সুবিশাল জমায়েতের একটি ভিডিও। সেই ভিডিওটি কোনও উঁচু জায়গা থেকে তোলা হয়েছে এবং দেখা যাচ্ছে শহরের ব্যস্ত এলাকায় আলো হাতে বিপুল জনসমাগম। এই ভিডিওটি পোস্ট করে কেউ কেউ লিখছেন এই দৃশ্য ইরানের, এবং সেখানে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে শোডাউন করা হচ্ছে। কারোর আবার দাবি যে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলের এবং সেখানে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সবথেকে বড় আন্দোলন করা হচ্ছে। 

প্রথম ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, "ইরানের সবচেয়ে বড় শোডাউন ফিলিস্তিনিদের পক্ষে।"

দ্বিতীয় ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, "আলহামদুলিল্লাহ, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আন্দোলন, ইস্তাম্বুল তুর্কী।"

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে উভয় দাবিই ভুল। ভিডিওটি তুরস্ক বা ইরান, কোনও দেশেরই নয় এবং এই জনসমাগমের সঙ্গে প্যালেস্তাইনের কোনও সম্পর্ক নেই। 

যেভাবে জানা গেল সত্যি

ভাইরাল ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে তার রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ওই একই ভিডিও দেখা যায় একটি এক্স হ্যান্ডেলে। জাকুব বিয়েলামোইচ নামে এক ব্যবহারকারী ওই ভিডিও গত ১৫ মার্চ পোস্ট করে লিখেছিলেন, বর্তমানে বেলগ্রেড। বেলগ্রেড হলো মধ্য ইউরোপের একটি ছোট দেশ। 

ক্যাপশনের পরবর্তী অংশে লেখা হয়, "মনে হচ্ছে আজ রাতে পুরো সার্বিয়ার রাজধানী ভুসিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছে।" অর্থাৎ এর থেকেই একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায় যে এই ব্যবহারকারীর দাবি অনুযায়ী ঘটনাটি গত ১৫ মার্চ রাতের এবং সার্বিয়ার। 

Advertisement

এই বিষয়ে কিওয়ার্ড সার্চ করে বিবিসি-র একটি খবর পাওয়া যায় যা গত ১৬ মার্চ প্রকাশ পেয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, সার্বিয়ান বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ পথে নেমে এসেছিলেন। আনুমানিক ৩ লক্ষ ২৫ হাজার মানুষের জমায়েত হয়েছিল রাজধানী বেলগ্রেড এবং অন্যান্য শহরে। গত নভেম্বর মাসে সার্বিয়ার নোভি সাদ নামের শহরে একটি স্টেশনে ব্রিজ দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তারপর থেকেই বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। তারই অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। 

এই সম্পর্কে কিওয়ার্ড সার্চ করে এই একই বিক্ষোভের একই জায়গার ছবি দেখা যায় স্টক ফটো ওয়েবসাইট গেটি ইমেজের ওয়েবসাইটে। সেখানে লেখা হয়, বেলগ্রেডে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের বিরুদ্ধে গত ১৫ মার্চ রাতে এভাবেই পথে নেমে আসে সে দেশের জনতা। 

এই ভিডিওটি যেখানে ধারণ করা হয়েছিল, সেই Trg Slavija নামের বৃত্তাকার স্কোয়ারটিও আমরা গুগল ম্যাপের সাহায্যে খুঁজে পাই। 

গুগল ম্যাপে থাকা বাড়িগুলির সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা ঘর-বাড়িগুলির তুলনা করলেই গোটা বিষয়টা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে যায় যে এই ভিডিওটি ইরান বা তুরস্ক, কোনও দেশেরই নয় এবং প্যালেস্তাইনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই বিক্ষোভগুলি করা হয়নি। 

 

ফ্যাক্ট চেক

Social Media Users

দাবি

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে তুরস্ক এবং ইরানে কীভাবে প্যালেস্তাইনের সমর্থনে আন্দোলন চলছে।

ফলাফল

ভাইরাল ভিডিওটি তুরস্ক বা ইরানের নয়। বরং সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের। গত ১৫ মার্চ স্থানীয় সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সেখানে আন্দোলন চলছিল, ভিডিওটি তখনই তোলা।  

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Social Media Users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement