ট্রাইব্যুনালে বিবেচনাধীনদের নিয়ে কী জানাল সুপ্রিমকোর্ট?পশ্চিমবঙ্গ SIR নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই রায় মূলত ট্রাইব্যুনাল নিয়ে। তাদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে বিবেচনাধীন ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তির পর তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।
আর এই রায় সামনে আসার পরই একাধিক প্রশ্ন অনেকের মনে। কারও জিজ্ঞাসা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলেই কি ভোট দেওয়া যাবে? যাঁরা ভোটের আগেও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন অবস্থায় থাকবেন, তাঁদের কী হবে? আর এই সব প্রশ্নের উত্তরও দিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলেই ভোট দেওয়ার ছাড়পত্র মিলবে না। বরং যাঁদের নামের নিষ্পত্তি হয়ে যাবে তাঁরাই ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া নির্বাচনের দুই দিন আগে পর্যন্ত নামের নিষ্পত্তি না হলেও ভোট দেওয়া যাবে না।
কী রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট?
রাজ্যে প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রে ভোট। সেখানকার যেই সকল বিবেচনাধীন ভোটারের নাম ট্রাইব্যুনাল ২১ এপ্রিল পর্যন্ত নিষ্পত্তি করে দেবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে এই সময়সীমা রাখা হয়েছে ২৭ এপ্রিল। এই সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল ছাড়পত্র দিলে ভোট দেওয়া যাবে। তবে ট্রাইব্যুনাল যে সব বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম বাদ দেবে, তাঁরা এবার ভোট দিতে পারবেন না।
সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে এসআইআর মামলায় এই রায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আর তাতেই খুশির হাওয়া বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে।
আসলে প্রথম এবং দ্বিতীয় দফার মনোনোয়ন জমা দেওয়ার পর ভোটার তালিকা ফ্রিজ করে দেয় কমিশন। যার ফলে অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন যে ট্রাইব্যুনাল ছাড়পত্র দিলেও এবার ভোট দেওয়ার সুযোগ মিলবে কি না। যদিও সেই বিষয়েই নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাল সুপ্রিম কোর্ট। তাদের দাবি, যাঁদের নাম ২৩ এপ্রিল এবং ২৭ এপ্রিলের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে যাবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।
মাথায় রাখতে হবে, ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন এসআইআরের ফাইনাল লিস্ট প্রকাশ করেছিল। সেখানে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ছিল বিবেচনাধীনের তালিকায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই সব ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তির কাজ করেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। আর বিবেচনাধীন তালিকা থেকে ভোটার তালিকায় নাম ফিরেছে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের। বাদ পড়েছেন ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন। এই ২৭ লাখই এখন আবেদন করছেন ট্রাইব্যুনালে।