WB Vote News: ভোট দিতে বাংলায় ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা, বলছেন, 'নাম কাটার ভয় তো আছে'

Migrant Workers Return: 'ইদের সময়ই ফিরি। এই প্রথম শুধু ভোট দিতেই আসছি,' ফোনে বলছিলেন রাজীব শেখ। কেন? 'অসমে কাজ করছিলাম। কিন্তু সবাই বলছে ভোট না দিলে নাম কেটে দিতে পারে।

Advertisement
ভোট দিতে বাংলায় ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা, বলছেন, 'নাম কাটার ভয় তো আছে'কাজ, রোজগার, শহুরে জীবন; সবকিছু ছেড়ে বাড়ির পথে পা বাড়াচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা।
হাইলাইটস
  • ভোটের মুখে বাংলায় ফেরার হিড়িক এমন হাজার-হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের।
  • পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে এই ফেরার ভিড়।
  • রাজীবের মতোই একই সুর মালদার শ্রমিক সইফুলের গলায়।

Migrant Workers Return: 'ইদের সময়ই ফিরি। এই প্রথম শুধু ভোট দিতেই আসছি,' ফোনে বলছিলেন রাজীব শেখ। কেন? 'অসমে কাজ করছিলাম। কিন্তু সবাই বলছে ভোট না দিলে নাম কেটে দিতে পারে। তাই কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরছি। কাজ পরে পাওয়া যাবে, কিন্তু ভোট মিস করলে চাপ হয়ে যাবে', বললেন ওয়াটার সাপ্লাই সংস্থার অভিজ্ঞ লেবারার।

ভোটের মুখে বাংলায় ফেরার হিড়িক এমন হাজার-হাজার রাজীবের। কাজ, রোজগার, শহুরে জীবন; সবকিছু ছেড়ে বাড়ির পথে পা বাড়াচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। ভোট দেওয়ার আগ্রহের থেকেও যেন, নাগরিকত্ব হারানোর ভয়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে এই ফেরার ভিড়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে নির্মাণকর্মী, পাইপলাইন শ্রমিক, হোটেল কর্মী; অনেকে ট্রেন-বাসে চেপে ফিরছেন মুর্শিদাবাদ, মালদা, দক্ষিণ দিনাজপুর-সহ বিভিন্ন জেলায়।

রাজীবের মতোই একই সুর মালদার শ্রমিক সইফুলের গলায়। বললেন, 'আমরা পাইপলাইনের কাজ করি নাগাল্যান্ডে। হঠাৎ শুনলাম ভোট না দিলে অনেক কিছু বন্ধ হয়ে যাবে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে বাড়ি ফিরছি।'

শুধু উত্তর-পূর্ব নয়, দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু থেকেও বহু গৃহকর্মী, রান্নার কাজ করা মহিলা, নির্মাণ শ্রমিক ফিরছেন বাংলায়। ট্রেনের টিকিট না পেয়ে অনেকেই বাস ভাড়া করছেন। কেউ কেউ ঠাসাঠাসি জেনারেল কামরায় চেপে ফিরছেন।

উলুবেড়িয়ার লেবার সাপ্লায়ার হাসিবুলের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হল। বললেন, 'আমি ১৫ বছর ধরে এই কাজ করছি। এই প্রথম দেখছি ভোটের জন্য এমন তাড়াহুড়ো করে ছেলেরা বাড়ি ফিরছে। আসলে সবাই ভয় পাচ্ছে। কেউ বলছে ভোট না দিলে নাম থাকবে না, কেউ বলছে সরকারি স্কিম বন্ধ হয়ে যাবে। তাই রিস্ক না নিয়ে কাজ ছেড়ে ফিরছে।'

মালদার আরেক শ্রমিক রহিম মণ্ডল বলেন, 'আমরা গরিব মানুষ। এত কিছু বুঝি না। শুধু চাই আমাদের নাম যেন থাকে, ভোট দিতে পারি। বাড়িতে মা, বউ-বাচ্চারা আছে। তাই সব ছেড়ে চলে আসছি।'

Advertisement

ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের খুরজা বা দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে বহু কারখানা ও বাড়িতে রীতিমতো কাজের লোকের অভাব দেখা দিচ্ছে। শিল্পমহলের দাবি, একসঙ্গে এত শ্রমিক চলে যাওয়ায় কাজকর্মে বেশ সমস্যা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ভয় অনেকাংশেই গুজব বা ভুল বোঝাবুঝি থেকে তৈরি। তবুও বাস্তব হল, সেই আতঙ্কই এখন মানুষের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।

ভোটের আগে বাংলায় এই 'বাড়ি ফেরার ঢেউ'ই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, SIR-এর প্রভাব কতটা গভীরভাবে পৌঁছে গিয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে। কাজের পরে, ভোট আগে; এই মুহূর্তে সেটাই Motto হয়ে দাঁড়িয়েছে বহু পরিযায়ী শ্রমিকের। 

POST A COMMENT
Advertisement