আজ ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ হতে চলেছে।Surya Grahan 2026 Timing in India: আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বলা হচ্ছে। ইংরাজিতে 'রিং অফ ফায়ার'। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে; ভারতে কি এই সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে? সূতক কাল মানা হবে? কী বলছেন জ্যোতিষীরা?
কখন শুরু, কতক্ষণ থাকবে?
জ্যোতিষী পণ্ডিত রাজ মিশ্রের মতে, ভারতীয় সময় অনুযায়ী বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে সূর্যগ্রহণ শুরু হবে। শেষ হবে সন্ধ্যা ৭টা ৫৭ মিনিটে। মোট প্রায় ৪ ঘণ্টা ৩২ মিনিট। গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল অগ্নিবলয় তৈরি হবে।
এই গ্রহণ কুম্ভ রাশি ও ধনিষ্ঠা নক্ষত্রে ঘটছে বলেও দাবি জ্যোতিষমহলের। তাঁদের মতে, এই অবস্থান গ্রহণটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
এই ‘রিং অফ ফায়ার’ কী?
যখন চাঁদ পৃথিবী থেকে তুলনামূলক দূরে অবস্থান করে এবং সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢাকতে পারে না, তখন সূর্যের চারপাশে এক সরু অগ্নিবলয়ের মতো আলোর বৃত্ত দেখা যায়। মাঝখানে অন্ধকার চাঁদ, চারদিকে আগুনের মতো জ্যোতি; এই দৃশ্যকেই বলা হয় ‘রিং অফ ফায়ার’। এটি আংশিক নয়, পূর্ণগ্রহণও নয়; মাঝামাঝি এক বিরল দৃশ্য।
ভারতে কি সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে?
এক কথায় উত্তর; না। এই বলয়াকার সূর্যগ্রহণ ভারতের আকাশে দৃশ্যমান হবে না। ফলে দেশে সূতক কালও প্রযোজ্য হবে না। সাধারণত গ্রহণ দৃশ্যমান হলে সূতক শুরু হয় গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে। সেই সময় মন্দিরে পূজা বন্ধ রাখা, শুভ কাজ স্থগিত রাখা প্রভৃতি রীতি পালন করা হয়। কিন্তু যেহেতু এই গ্রহণ ভারতে দেখা যাচ্ছে না, তাই ধর্মীয় বিধিনিষেধের প্রশ্নই উঠছে না।
কোথায় দেখা যাবে?
আফ্রিকার কিছু অংশ; বিশেষত জিম্বাবোয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাম্বিয়া, তানজানিয়া, মরিশাস; এবং দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা ও চিলিতে এই গ্রহণ আংশিক বা বলয়াকার রূপে দেখা যাবে। দক্ষিণ আটলান্টিক ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও দৃশ্যমান হবে এই মহাজাগতিক ঘটনা।
অন্যদিকে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, আফগানিস্তান, মায়ানমার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী-সহ এশিয়ার বহু দেশ, ইউরোপের অধিকাংশ অংশ এবং উত্তর আমেরিকা থেকে এটি দেখা যাবে না।
৬৪ বছর পর বিরল যোগ?
জ্যোতিষীদের দাবি, ৬৪ বছর পর কুম্ভ রাশিতে সূর্য ও রাহুর যুগপৎ অবস্থান তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে শক্তিশালী চতুর্গ্রহ যোগও বিরাজমান। মঙ্গল উচ্চ অবস্থায় গোচর করছে, যা শক্তি ও সিদ্ধান্তক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। বৃহস্পতি শীঘ্রই নিজ উচ্চ রাশিতে প্রবেশ করবে বলেও মত তাঁদের। যদিও এই সমস্ত ব্যাখ্যার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তা সত্ত্বেও ধর্মীয় মহলে তা নিয়ে উৎসাহ তুঙ্গে।
গ্রহণের সময় কী করবেন?
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী গ্রহণকালে ‘ওঁ সূর্যায় নমঃ’ মন্ত্র জপ, আদিত্য হৃদয় স্তোত্র পাঠ, গ্রহণ শেষে দান-পুণ্য এবং গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান শুভ বলে মানা হয়। তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, গ্রহণের সঙ্গে অশুদ্ধতা বা নেতিবাচক শক্তির সরাসরি কোনও প্রমাণ নেই।
ভারতে দৃশ্যমান না হলেও ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ফলে আকাশপানে তাকিয়ে ‘রিং অফ ফায়ার’-এর সাক্ষী হতে না পারলেও মহাজাগতিক এই খেলা ঘিরে যে সবার কৌতূহল তুঙ্গে, তা বলাই বাহুল্য।