
ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক দুপুর ১২টা। 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনিতে কেঁপে উঠল সরযূ তট। ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই ঘটল বিস্ময়কর ঘটনা। রাম মন্দিরের গর্ভগৃহে রামলালার কপালে এসে পড়ল সূর্যের রশ্মি। চার মিনিট ধরে চলল রামলালার সূর্যতিলক। আর সেটা ভার্চুয়ালি চাক্ষুস করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ভার্চুয়াল মাধ্যমেও হাত জোড় করে ভক্তিভরে দেশবাসীর মঙ্গলকামনা করতে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাঁর সেই মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

রুরকির সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা বিশেষ এক ধরনের লেন্স ও আয়না তৈরি করেছেন যা মন্দিরের কাঠামোর সঙ্গে জোড়া হয়। সূর্যরশ্মির মন্দিরর গায়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই আয়না ও লেন্সে বারবার প্রতিফলিত হয়ে গর্ভগৃহে ঢুকে রামলালার মূর্তির কপালে পড়ে।

বেঙ্গালুরু ইন্ডিয়ান ইন্সস্টিউট অফ অ্য়াস্ট্রো ফিজিক্স ও উত্তরাখণ্ডের রুরকির CBRI (Central Building Research Institute), বেঙ্গালুরুর অপটিক কোম্পানির চেষ্টায় এটি সম্ভব হয় প্রতিবার। এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রধান অবদান রয়েছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিউট অফ অ্যাস্ট্রো ফিজিক্সেরও।

গর্ভগৃহে সূর্যের প্রথম কিরণ ঢুকে রামলালার মুখমণ্ডলে পড়ে। তারপর তাঁর কপাল থেকে সূররশ্মি ঠিকরে আলোকিত হয় গর্ভগৃহ।

সূর্যরশ্মির মন্দিরর গায়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই আয়না ও লেন্সে বারবার প্রতিফলিত হয়ে গর্ভগৃহে ঢুকে রামলালার মূর্তির কপালে পড়ে।

আধ্যাত্মিক মানুষরা এ দৃশ্য দেখে বলেন, ৫.৮ সেন্টিমিটার ব্যাসের সেই আলোকবিন্দু যখন রামলালার কপালে স্থির হয়, মনে হয় স্বয়ং সূর্যদেব তাঁর উত্তরপুরুষকে আশীর্বাদ করছেন।

সূর্য তিলক ভারতের বৈজ্ঞানিক দক্ষতা এবং আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের মেলবন্ধন। কোটি কোটি ভক্ত ভার্চুয়ালি এই অলৌকিক দৃশ্যের সাক্ষী হন।

উৎসবের মেজাজে ভোর ৫টা থেকেই খুলে দেওয়া হয়েছিল মন্দিরের দরজা। সরযূ নদীতে পুণ্যস্নান সেরে ভক্তরা লাইন দেন মন্দিরে। প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী, দশ লক্ষেরও বেশি মানুষের ভিড় হয়েছে অযোধ্যার রাম মন্দিরে।