তেলের দর বাড়লে ভারতে চাল, ডালের দাম বাড়বে কেন? ষষ্ঠ দিনে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। অনেক বিশেষজ্ঞই আশা করছিলেন খুব তাড়াতাড়ি ইরান আমেরিকার মতো পরাশক্তির সামনে হাঁটু গেঁড়ে বসতে বাধ্য হবে। কিন্তু, দেখা যাচ্ছে, লম্বা যুদ্ধ লড়তে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। এমনকি ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যে যে দেশে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেই দেশগুলিতে ড্রোন ও মিসাইল হামলাও করেছে তেহরান। অবশ্য এক্ষেত্রে ইরানের লক্ষ্য ছিল সামরিক ঘাঁটিগুলিই। তবে তাতে আমেরিকার খুব বেশি ক্ষতি হয়নি বলেই দাবি করা হয়েছে।
যুদ্ধ না থামলে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে?
ইরান যুদ্ধ শুরু করার কয়েক দিন পরেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলশ্রুতিতে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, উপসাগরীয় এলাকায় এই সরু প্রণালী দিয়েই বিশ্বের মোট অশোধিত তেলের ২০ শতাংশ নিয়ে যাওয়া হয়। ইরানের সবচেয়ে বড় সম্পদ তেল। একই সঙ্গে বিরাট সম্পদ হল হরমুজ প্রণালী। এমন এক সমুদ্রপথ, যা বন্ধ রাখা মানে বিশ্বে অশোধিত তেলের দাম একেবারে আকাশছোঁয়া হতে পারে। শুধু ভারতেই নয়, জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে ভারত, চিন ও জাপান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কারণ, এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই অশোধিত তেল ভারত, চিন, জাপান সহ বেশ কয়েকটি দেশে যায়।
অপরিশোধিত তেলের দাম কতটা বাড়ল?
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি WTI ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ব্য়ারেল প্রতি ৬৫ ডলারের আশেপাশে। কিন্তু ৫ মার্চ ৭৭.৭৫ ডলারে বিকিয়েছে অপরিশোধিত তেল। অর্থাৎ গত ৭ দিনের নিরিখে ক্রুড অয়েলের দাম বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানাচ্ছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম রেকর্ড হারে বাড়তে পারে। এমনকি ১০০ ডলার ছুঁতে পারে অপরিশোধিত তেলের দাম।
ভারতে চাল-ডালের দাম বাড়তে পারে?
জ্বালানির ক্ষেত্রে ভারত পুরোপুরি আমদানি নির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে যদি অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পায়, এর অর্থ হল দেশীয় বাজারেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হওয়া। কারণ অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে দেশে জ্বালানির দামের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
আর পেট্রোল, ডিজেলের মতো জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে দেশে চাল-ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বৃদ্ধি পায়। কারণ এই জিনিসগুলির পরিবহনের খরচ একধাক্কায় বেড়ে যায়। মাছ-মাংস থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র যে যে জিনিস পরিবহন করা হয়, সেই জিনিসগুলির দাম লাফিয়ে বৃদ্ধি পায়। ফলে চাল, ডাল, মাছ, মাংসের মতো জিনিসের দাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক ব্যাপার হবে না।
চিন্তার বিশেষ কারণ নেই
রিপোর্ট বলছে ভারতের অপরিশোধিত তেলের মজুদ প্রায় ১৭-১৮ দিনের রয়েছে। পেট্রোল এবং ডিজেলের মতো পরিশোধিত জ্বালানি প্রায় ২০-২১ দিন ধরে ব্যবহারের সুযোগ দেয়। যেখানে এলএনজি মজুদ রয়েছে ১০-১২ দিনের।
এছাড়াও, এমন সময়ে ভারতের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তৈরি 'বিপদের বন্ধু' রাশিয়া। ৯.৫ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল সমুদ্র পথে বেরিয়ে পড়েছে। নয়াদিল্লির ছাড়পত্র পেলে সেই তেল আর কিছুদিনের মধ্যেই চলে আসবে ভারতে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই জানিয়েছে এক ইন্ডাস্ট্রি সূত্র।
বিপদ দেখাচ্ছে রুপিও
যুদ্ধের বাজারে রেকর্ড দুর্বলতার সাক্ষী ভারতীয় মুদ্রা। এক ডলারের বিপরীতে রুপি নেমেছে ৯২.৩১ -তে। এই প্রথম ডলারের তুলনায় টাকার দাম এতটা পড়ল। সাম্প্রতিক অতীতে ডলারের তুলনায় টাকার দামে এতটা পতন দেখা যায়নি।