Aurangzeb Tomb Row: ঔরঙ্গজেব নিয়ে হঠাত্‍ কেন 'হাওয়া গরম'? বিস্তারিত রইল

ঔরঙ্গজেবের সমাধি বিতর্কে রীতিমতো আগুন জ্বলল মহারাষ্ট্রের নাগপুরে। সোমবার সন্ধে থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। একের পর গাড়ি, বাইকে আগুন, ইট-পাথর ছুড়ছে উন্মত্ত জনতা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন। নাগপুরে মূলত হিংসা ছড়ায় একটি গুজব থেকে।

Advertisement
ঔরঙ্গজেব নিয়ে হঠাত্‍ কেন 'হাওয়া গরম'? বিস্তারিত রইল ঔরঙ্গজেবের সমাধি বিতর্ক
হাইলাইটস
  • ঔরঙ্গজেব নির্যাতনকারী নাকি সফল প্রশাসক?
  • ঔরঙ্গজেবকে নিয়ে ২০২৫ সালে এত বিতর্ক কেন?
  • Chhaava সিনেমা থেকে যেভাবে তপ্ত পরিস্থিতি 

মুঘল সাম্রাজ্যে সবচেয়ে বেশি দিন রাজত্ব করা সম্রাট। ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর ৩১৮ বছর পরেও ভারতে বিতর্ক ও হিংসা পরিস্থিতি। নাগপুরের হিংসা যার অন্যতম উদাহরণ। কথা হচ্ছে মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবকে নিয়ে। হিংসার কেন্দ্রে মূলত দাবি হল, মহারাষ্ট্রে ঔরঙ্গাবাদ জেলায় ঔরঙ্গজেবের সমাধি ভেঙে ফেলতে হবে। ইতিমধ্যেই দেশের কয়েকটি হিন্দু সংগঠন, ঔরঙ্গজেবের সমাধি বাবরি মসজিদের মতো গুঁড়িয়ে ফেলার হুমকিও দিয়েছে। ১৭০৭ সালে মহারাষ্ট্রের আহিল্যা নগরে একটি ছোট তাঁবুতে যখন তাঁর মৃত্যু হয় তখন,বয়স ৮৮ পেরিয়ে গিয়েছে।

ঔরঙ্গজেব নির্যাতনকারী নাকি সফল প্রশাসক?

হিন্দু সংগঠ্নগুলির কাছে ঔরঙ্গজেব শত শত মন্দির ধ্বংসকারী, নিষ্ঠুর নির্যাতনকারী ও হিন্দুবিদ্বেষী একজন শাসক। অন্য দিকে ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মভীরু মুসলিম হিসেবে তাঁর জীবনযাপন, শরিয়া আইনের প্রতি আনুগত্য বা তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার দৃষ্টান্ত দিয়ে তাঁকে দেশের অন্যতম সফল ইসলামী শাসক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টাও হয়েছে অন্য তরফে।

হঠাত্‍ ১৭০৭ সালে মারা যাওয়া ঔরঙ্গজেবকে নিয়ে ২০২৫ সালে এত বিতর্ক কেন?

ঔরঙ্গজেবের সমাধি বিতর্কে রীতিমতো আগুন জ্বলল মহারাষ্ট্রের নাগপুরে। সোমবার সন্ধে থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। একের পর গাড়ি, বাইকে আগুন, ইট-পাথর ছুড়ছে উন্মত্ত জনতা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন। নাগপুরে মূলত হিংসা ছড়ায় একটি গুজব থেকে। সোমবার রাতে হঠাত্‍ নাগপুরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, ঔরঙ্গজেবের সমাধি যারা ভাঙতে চাইছে, সেই বিশ্বহিন্দু পরিষদ ও বজরং দল কোরানও পোড়াচ্ছে। এরপরেই বজরং দলের বিক্ষোভের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরপরেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ে।

Chhaava সিনেমা থেকে যেভাবে তপ্ত পরিস্থিতি 

আগুনটা আসলে ধিকধিক করে কয়েক সপ্তাহ ধরেই জ্বলছিল। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে খুলাদাবাদে ঔরঙ্গজেবের সমাধি ভেঙে ফেলার দাবি করে কয়েকটি হিন্দু সংগঠন।  ভিকি কৌশলের ছাবা (Chhaava) সিনেমাটি নিয়ে সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক আবু আজমি বিধানসভায় দাবি করেন, ছাবা সিনেমায় ছত্রপতি শিবাজির সঙ্গে ঔরঙ্গজেবের যুদ্ধ ঠিক ছিল না। এমনকী ঔরঙ্গজেব ভাল প্রশাসক ছিলেন।

Advertisement

ব্যস, এরপরেই ঔরঙ্গজেবের সমাধি ভেঙে ফেলার দাবি জোরাল হতে শুরু করে। কয়েকটি হিন্দু সংগঠন তো বটেই, এমনকী মহাযুতি জোটের একনাথ শিন্ডে ও অজিত পাওয়ারও একই দাবি তোলেন। এরই মধ্যে সাতারার সাংসদ উদয়নরাজে ভোসলে দাবি করেন, ঔরঙ্গজেব চোর ছিলেন। ওর সমাধি যারা দেখতে যান, তাঁরা ওটিকে বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন। গত সপ্তাহে একই লোকসভায় একই দাবি করেন শিন্ড সেনার সাংসদ নরেশ মাহাস্কে।

গত সপ্তাহে এই দাবি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়বীশও সমর্থন করেন। ২০২২ সালের মে মাসে AIMIM নেতা আকবরউদ্দিন ওয়েইসি ঔরঙ্গজেবের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। তখনও মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা ওই সমাধি ভেঙে ফেলার দাবি করেছিল।
 

POST A COMMENT
Advertisement