
নীতীশ কুমার ও সম্রাট চৌধুরী নীতীশ কুমার রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তা নিয়ে ক্ষুব্ধ জেডিইউ কর্মী-সমর্থকরদের একটা বড় অংশ। একটা বিশাল অংশের কর্মী-সমর্থক চান না, নীতীশ পদত্যাগ করুন। সেই দাবিতে এদিন জেডিইউ অফিসের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। এমনকী রাজ্য সভাপতি উমেশ কুশওয়াহাকেও ঘেরাও করেন।
যদিও উমেশ কুশওয়াহা আশ্বস্ত করেন কর্মীদের। তিনি জানান, এখনও নীতীশ কুমার পদত্যাগ করেননি। কর্মীদের মনোভাব মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হবে। তারপরই নাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে এই আশ্বাসবাণীতে সন্তষ্ট নন কর্মী-সমর্থকরা। তাঁরা বলছেন, নীতীশ কুমারকে দেখেই বিজেপি ভোট পেয়েছিল। অথচ এখন নীতীশকে সরানো মানে প্রতারণা করা। বিজেপি পরিকল্পনা করে এই গেম খেলছে।
এদিকে এই ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্য়েই নীতীশের উত্তরসূরী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই এনডিএ শরিক জিতেন রাম মানঝির হিন্দুস্তান আওয়াম মোর্চা সন্ধেবেলা দলীয় নেতা ও বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছে। তাদের তরফেও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সম্রাট চৌধুরী এগিয়ে
মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার দৌড়ে সবথেকে বেশি এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। তিনি বিজেপির যেমন একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা তেমনই ওবিসি সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী মুখ। গত কয়েক মাস ধরে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার ফলে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরও আস্থাভাজন।
নিত্যানন্দ রাইও আলোচনায়
আর একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীনে কাজ করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি কোনও যাদব নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়, তবে তা যাদব ভোটব্যাঙ্কে বড় বার্তা দিতে পারে। ঐতিহ্যগতভাবে এই সম্প্রদায় লালু প্রসাদ ও তেজস্বী যাদবকে ভরসা করে থাকে। তাই ভবিষ্যৎ নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিজেপি নিত্যানন্দকে মুখ্যমন্ত্রী করতে পারে।

আরও যে সব নাম আসছে...
এছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বিহারের মন্ত্রী ও প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ যশওয়াল। বৈশ্য সম্প্রদায়ের এই নেতা সংগঠনের নির্ভরযোগ্য মুখ।
এছাড়া পটনার দিঘা কেন্দ্রের পাঁচবারের বিধায়ক সঞ্জীব চৌরাশিয়ার নামও মাঝে মাঝে আলোচনায় উঠে আসছে। তিনি পটনায় সাংগঠনিক কাজের জন্য পরিচিত।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের
তবে সব জল্পনার মাঝেও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে দলীয় সূত্রের খবর। বিহারের জটিল জাতিগত সমীকরণ, সংগঠনের শক্তি এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল বিবেচনা করেই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হবে।