আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে প্রথম প্রতিক্রিয়া দিল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের সেক্রেটারি বিক্রম মিশ্রি বৃহস্পতিবার খামেনেইয়ের জন্য কনডোলেন্স বুকে স্বাক্ষর করলেন। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে ভারতের এই প্রতিক্রিয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। ঘুরপথে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই কি তবে বড় বার্তা দিল নয়াদিল্লি?
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সুপ্রিম লিডার আলি খামেনেই ১৯৮৯ সাল থেকে দেশটির নেতৃত্বে ছিলেন। গত শনিবার ভোরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ৮৬ বছর বয়সী এই নেতাকে হত্যা করা হয়।
ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া এল বিক্রম মিশ্রির শোকজ্ঞাপনের মাধ্যমে। খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর প্রথম ঘোষণা করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি শনিবার রাতে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে এ কথা জানান।
ইরানের জনগণের জন্য এটিকে দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ বলে উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'খামেনেই ইতিহাসের অত্যতম দুষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি মারা গিয়েছে। এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নয় বরং মহান আমেরিকানদের জন্যও গর্বের। বিশ্বের বহু দেশের মানুষদের জন্যও ন্যায়বিচার, যাঁরা খামেনেইয়ের কারণে নিহত বা বিকলাঙ্গ হয়েছেন।'
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত নীরব অবস্থান নিয়েছে এবং সব পক্ষকে অবিলম্বে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর ঘটনাতেও ভারত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি এবং আমেরিকা-ইজরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে যে দেশগুলো সমালোচনা করেছে, তাদের তালিকায় নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করেনি নয়াদিল্লি।
খামেনেইর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। একদিকে ইজরায়েল এই অভিযানের জন্য তাদের সেনাবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া ও চিন প্রথম দিকেই এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানায়। এই দুই দেশ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো সামরিক বিমান হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।