ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে বিতর্কে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে নিয়ে ধমকালেন প্রাক্তন বিচারপতি ও তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বুধবার লোকসভায় পাস হয়েছে ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৫। তার আগে গভীর রাত পর্যন্ত এই বিল নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। বিল নিয়ে বক্তব্য রাখতে উঠে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, 'যখন বিলটি পেশ করা হয়েছিল, তখন সারা পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশে কিছু ঘৃণ্য প্রচার চলছিল। বিরোধীরা কি এমন একটি বিধানের কথা বলতে পারবে না যেখানে বলা হয়েছে যে বিলটি মুসলিমদের সম্পত্তি কেড়ে নেবে?'
অভিজিৎ যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখন বিরোধী সাংসসদের মধ্য়ে কেউ কিছু বলেন। আর তারপরেই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ঘুরে বলেন,'অ্যাই চোপ..চোপ.. কিচ্ছু জানে না, বকর বকর চোপ...।'
বুধবার প্রায় ১২ ঘণ্টা বিতর্কের পর অবশেষে লোকসভায় পাস হয় ওয়াকফ সংশোধনী বিল। বুধবার গভীর রাতে ভোটাভুটিতে পাস হল বিল। বিলের পক্ষে ভোট দিলেন ২৮৮ জন সাংসদ। বিপক্ষে ভোট দিলেন ২৩২ জন। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এই বিল পেশ করা হবে। বুধবার লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। বিল পেশ হতেই একযোগে বিরোধিতায় সরব হয় বিরোধী শিবির। ওয়াকফ বিলের বিরোধিতা জানিয়ে প্রথম থেকেই সরব হয় তৃণমূল-সহ বিভিন্ন বিরোধী দল। বিরোধীদের পাল্টা সরব হয় সরকার পক্ষ। শেষমেশ গভীর রাতে ভোটাভুটিতে পাস হয় এই বিল।
বুধবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন,'ওয়াকফ আইন এবং ওয়াকফ বোর্ড ১৯৯৫ সালে কার্যকর হয়েছিল। অমুসলিমদের সম্পর্কে যে দাবি করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি দেশের মুসলিমদের বলতে চাই যে একজনও অমুসলিম ওয়াকফে থাকবে না। এই আইনে এমন কোনও বিধান নেই। তবে ওয়াকফ বোর্ড এবং ওয়াকফ কাউন্সিল এখন ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রিকারীদের ধরবে। যাঁরা ওয়াকফের নামে ১০০ বছরের জন্য সম্পত্তি লিজ দেবেন তাঁদেরও ধরা হবে। ওয়াকফের আয় কমছে। ওই আয় থেকে সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন করতে হবে। তাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেই টাকা চুরি করা হচ্ছে। ওয়াকফ বোর্ড এবং কাউন্সিল সেটা ধরবে'। শাহ আরও বলেন,'কিছু লোক গুজব ছড়াচ্ছে যে এই আইন মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার এবং সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করবে। এটি সম্পূর্ণ ভুল এবং সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানোর একটি ষড়যন্ত্র, যাতে তাঁদের ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।'