India Chicken Neck: ইউনূসের মুখে 'চিকেন নেক', বাংলাদেশকে সবক শেখানোর তোড়জোড় উত্তর-পূর্বের নেতাদের

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির কথা উল্লেখ করে চিনের কাছে তার অর্থনীতি সম্প্রসারণের আবেদন করেছেন, যা নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারতীয় নেতারা ইউনূসের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন এবং তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।

Advertisement
ইউনূসের মুখে 'চিকেন নেক', বাংলাদেশকে সবক শেখানোর তোড়জোড় উত্তর-পূর্বের নেতাদের ইউনূসের 'চিকেন নেকের' কড়া জবাব উত্তর-পূর্বের

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির কথা উল্লেখ করে চিনের কাছে তার অর্থনীতি সম্প্রসারণের আবেদন করেছেন, যা নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারতীয় নেতারা ইউনূসের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন এবং তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মহম্মদ ইউনূসের এই বক্তব্যকে উস্কানিমূলক এবং অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন যে বাংলাদেশের তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের উত্তর-পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টার্স সম্পর্কে দেওয়া বক্তব্য আপত্তিকর এবং এর তীব্র নিন্দা করা উচিত।

তিনি বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে  সংযোগ স্থাপনের জন্য শক্তিশালী রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা অপরিহার্য। ভারতের কিছু অভ্যন্তরীণ উপাদান এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি কেটে উত্তর-পূর্বকে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করার বিপজ্জনক পরামর্শও দিয়েছিল। তিনি আবেদন করেন যে চিকেন নেক করিডোরের নীচে এবং চারপাশে একটি শক্তিশালী রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা উচিত। তিনি বলেন, যদিও এতে বড় ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে, তবুও দৃঢ় সংকল্প এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে এটি সম্ভব। ইউনূসের এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

 

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে, টিপরা মোথা পার্টির প্রধান প্রদ্যোত মানিক্য বলেন যে ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করার পরিবর্তে, আমাদের বাংলাদেশকে ভেঙে নিজেদের সামুদ্রিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা উচিত। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপনকারী উপজাতি সম্প্রদায়গুলি ১৯৪৭ সাল থেকে ভারতের সঙ্গে  থাকতে চেয়েছিল। লক্ষ লক্ষ ত্রিপুরী, গারো, খাসি এবং চাকমা মানুষ এখনও বাংলাদেশে দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে বসবাস করছে। আমাদের জাতীয় স্বার্থ এবং তাদের কল্যাণের জন্য এই বিষয়টি ব্যবহার করা উচিত।

কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও মহম্মদ ইউনূসের বক্তব্যের নিন্দা করেছেন এবং এই অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতকে ঘিরে ফেলার জন্য চিনকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের এই মনোভাব আমাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য খুবই বিপজ্জনক। সরকার মণিপুরের যত্ন নিচ্ছে না এবং চিন ইতিমধ্যেই অরুণাচলে  বসতি স্থাপন করেছে। আমাদের বিদেশনীতির অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, যে দেশের সৃষ্টিতে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, সেই দেশটিও আজ আমাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে ব্যস্ত।

Advertisement

মহম্মদ ইউনূস আসলে কী বলেছিলেন?
 চিন সফরকারী বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস চিনের মাটিতে  দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে ঢাকা এই অঞ্চলের সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক। চিনকে তার দেশে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর সময়, ইউনূস ভারতের সীমাবদ্ধতাগুলি তালিকাভুক্ত করেছিলেন এবং বাংলাদেশে তাদের বিশাল ব্যবসায়িক সুযোগ রয়েছে বলে চিনকে প্রলুব্ধ করেছিলেন বলে জানা গেছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির কথা উল্লেখ করে মহম্মদ ইউনূস বলেছিলেন যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে সেভেন সিস্টার বলা হয়। তারা ভারতের স্থলবেষ্টিত অঞ্চল। তাদের সমুদ্রে পৌঁছানোর কোন উপায় নেই। এই সমগ্র অঞ্চলে সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক বাংলাদেশ।

চিকেন নেক কী? 
চিকেন নেক, যা শিলিগুড়ি করিডোর নামেও পরিচিত। এটি প্রায় ২০-২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি এলাকা। এটি সেই একই পথ যা মূল ভূখণ্ড ভারতকে তার উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির সঙ্গে সংযুক্ত করে (যা "সেভেন সিস্টার্স" নামেও পরিচিত)। প্রশ্ন জাগে কেন একে চিকেন নেক বলা হয়? আসলে এর নাম "চিকেন নেক" কারণ এটি মুরগির গলার মতো সরু। এই ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত পথটি ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এই কারণে এটি ভৌগোলিক এবং কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে সংবেদনশীল। এই করিডোরটি নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটান এবং চিনের মতো প্রতিবেশী দেশ দ্বারা বেষ্টিত, যার কারণে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

POST A COMMENT
Advertisement