
অসমের কাছাড় জেলার শিলচর বাইপাসে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দিল্লির ‘নির্ভয়া’ কাণ্ডের ছায়া টেনে এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, হবু স্বামীকে ছুরি ঠেকিয়ে আটকে রেখে তরুণীকে গণধর্ষণ করে ৭ যুবক। ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ, শিলচর বাইপাসের চেংকুড়ি রোড সংলগ্ন এলাকায়। সামনেই ওই তরুণীর বিয়ে। সেদিন তিনি হবু স্বামীর সঙ্গে গাড়িতে করে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। নির্যাতিতার অভিযোগ, রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে কথা বলার সময় একটি গাড়ি এসে সামনে থামে। সেখান থেকে সাতজন যুবক নেমে ছুরি দেখিয়ে তাঁদের গাড়ি থেকে নামতে বাধ্য করে। যুবককে টেনে হিঁচড়ে কিছু দূরে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। এরপর তরুণীর ওপর চলে নির্যাতন।
অভিযোগ, যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা তরুণীর সোনার আংটি কেড়ে নেয় এবং তাঁর হবু স্বামীর কাছ থেকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা আদায় করে। নির্যাতিতা পুলিশকে জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে নীলোৎপল দাস (২৫) নামে একজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। সে শিলচরের আশ্রম রোড এলাকার তপোবন নগরের বাসিন্দা। পুলিশ দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে। কাছাড় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ দমন শাখা) রজত কুমার পাল জানান, এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং মেডিক্যাল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত নীলোৎপল ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে তার দাবি, ওই দম্পতিকে ‘আপত্তিজনক অবস্থায়’ দেখে ব্ল্যাকমেল করা হয়েছিল। ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার কথাও সে স্বীকার করেছে। এমনভাবে আগেও একাধিক দম্পতিকে ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনার পর শহরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। পরদিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সফর থাকার কথা ছিল। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও এমন ঘটনা ঘটায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাইপাস এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহলদারির দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। তৃণমূল সাংসদ তথা শিলচরের নেত্রী সুস্মিতা দেব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নারী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং কাছাড়ের পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছেন।