উত্তরপ্রদেশে যুবকের আত্মহত্যা স্ত্রী বেশ কয়েক মাস ধরে বাড়িতে ফেরেননি। সেই রাগে আত্মহত্যা করলেন এক ব্যক্তি। ঘটনা উত্তরপ্রদেশের এক গ্রামের। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সেই ব্যক্তি। সেজন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তির নাম দুষ্যন্ত (৩২)। তিনি উত্তরপ্রদেশের এটাহ জেলার পুনহেরা গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ নিজের বাড়ির কাছেই পিস্তল দিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দুষ্যন্ত গত কয়েক মাস ধরে গভীর মানসিক চাপে ভুগছিলেন। পারিবারিক সমস্যার কারণে তাঁর স্ত্রী প্রায় ১০ মাস ধরে বাবার বাড়িতে থাকছিলেন। স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন। এই ঘটনায় দুষ্যন্ত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং স্ত্রীর অনুপস্থিতি তাঁকে ক্রমশ হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছিল।
বুধবার রাতে গুলির শব্দ শুনে আশপাশের মানুষজন ছুটে আসেন। ঘটনাস্থলে এসে তারা দুষ্যন্তকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। খবর পেয়ে সেখানে আসে জালেসর থানার পুলিশ।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশি পিস্তল উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, ওই আগ্নেয়াস্ত্র দিয়েই তিনি নিজের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন। ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৃতদেহটি পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জালেসর থানার স্টেশন হাউস অফিসার অমিত কুমার জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনাই বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পারিবারিক কলহ বা অন্য কোনও বিষয় এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এই ঘটনার পর পুনহেরা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গ্রামের মানুষজনও এই ঘটনায় স্তম্ভিত। স্থানীয়দের মতে, দুষ্যন্ত সাধারণ স্বভাবের মানুষ ছিলেন, তবে গত কয়েক মাস ধরে তাঁকে খুবই উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত দেখা যেত।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরই ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে। বর্তমানে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।