Shocking News: চাকরির টোপ, মাদক খাইয়ে ধর্ষণ, তারপর ধর্ম পরিবর্তনের চাপ; দুই বোনের চক্র ফাঁস

Bhopal Racket news: চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেকে নিয়ে যাওয়া। তারপর মাদক খাইয়ে ধর্ষণ। জোর করে ধর্মান্তরের অভিযোগ। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে এমনই এক ভয়ঙ্কর চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। দুই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই চক্রের হদিস মেলে।

Advertisement
চাকরির টোপ, মাদক খাইয়ে ধর্ষণ, তারপর ধর্ম পরিবর্তনের চাপ; দুই বোনের চক্র ফাঁস ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে দুই বোনকে।
হাইলাইটস
  • চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেকে নিয়ে যাওয়া। 
  • তারপর মাদক খাইয়ে ধর্ষণ।
  • মধ্যপ্রদেশের ভোপালে এমনই এক ভয়ঙ্কর চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ।

Bhopal Racket news: চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেকে নিয়ে যাওয়া। তারপর মাদক খাইয়ে ধর্ষণ। জোর করে ধর্মান্তরের অভিযোগ। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে এমনই এক ভয়ঙ্কর চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। দুই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই চক্রের হদিস মেলে। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে দুই বোনকে। পলাতক আরও তিন অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারীদের মধ্যে একজন ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা ২১ বছরের এক বিউটিশিয়ান। অন্য জন ভোপালের বাসিন্দা ৩০ বছরের এক গৃহিণী। দু'জনেরই অভিযোগ, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের ফাঁদে ফেলা হয়। পরে মাদক খাইয়ে একাধিক বার যৌন নির্যাতন করা হয় এবং ধর্মান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হয়।

কীভাবে ফাঁদ পাতা হত?
অভিযোগ, দুই বোন; আফরিন এবং আমরিন অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের মেয়েদের টার্গেট করতেন। তাঁদের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের বাড়িতে বা পরিচিত জায়গায় নিয়ে যাওয়া হত। প্রথমে বিশ্বাস অর্জন করা হত। তার পর শুরু হত নির্যাতনের চক্র।

২১ বছরের ওই বিউটিশিয়ান জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আমরিন তাঁকে ভোপালের আব্বাস নগরে নিয়ে যান। সেখানে আমরিনের ভাই বিলাল তাঁকে চায়ে মাদক মিশিয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। পরে তাঁকে ব্যক্তিগত কাজের অজুহাতে আমদাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইয়াসির নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় করানো হয়। অভিযোগ, সেখানেও তাঁকে ধর্ষণ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চন্দন যাদব নামে এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের অগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত একাধিক বার তাঁকে যৌন নির্যাতন করেন। আপত্তিকর অবস্থার ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল করা হত বলেও অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী।

মাদক, ভয় দেখানো এবং ধর্মান্তরের চাপ
তরুণীর অভিযোগ, তাঁকে জোর করে ছোট এবং উন্মুক্ত পোশাক পরতে বাধ্য করা হত। ধনী ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করতে পাবেও নিয়ে যাওয়া হত। সেখানে তাঁকে মাদক সেবন করানো হত। একাধিক বার যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

Advertisement

এতেই শেষ নয়। অভিযোগ, তাঁকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এমনকি বোরখা পরতেও বাধ্য করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে কোনও ভাবে সেখান থেকে পালিয়ে ছত্তীসগঢ়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। পরে ফেব্রুয়ারি মাসে ভোপালে ফিরে এসে ২২ ফেব্রুয়ারি বাগসেওনিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

দ্বিতীয় অভিযোগ সামনে আসতেই চক্রের পর্দাফাঁস
পুলিশ জানিয়েছে, এর মধ্যেই আরও এক তরুণী একই ধরনের অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি আমরিনের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। তিনিও অভিযোগ করেন, বিলাল, ইয়াসির এবং চন্দন তাঁকে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণ করেছেন। পুলিশকে ভিডিও প্রমাণও দিয়েছেন তিনি।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ধর্ষণ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং জোর করে ধর্মান্তরের ধারায় মামলা দায়ের করেছে। আফরিন এবং আমরিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে সন্দেহজনক কারবার
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত দুই বোন ভোপালের সাগর রয়্যাল ভিলা এলাকায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে থাকতেন। প্রতিবেশীদের দাবি, ওই ফ্ল্যাটে মাঝরাতে বহু অচেনা পুরুষ এবং যুবকের যাতায়াত ছিল। এতে আগেই সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।

পুলিশের দাবি, ঘটনার তদন্ত চলছে। আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

POST A COMMENT
Advertisement