ইন্টারনেটের দৌলতে অনেকে রাতারাতি 'স্টার' হয়েছে। অনেকে আজও জনপ্রিয়। আবার অনেকে লাইমলাইট থেকে বহু দূরে। কেউ খ্যাতি পেয়েছেন, কেউ খ্যাতি সামলাতে পারেননি। গত প্রায় দু বছর ধরে নেটিজেনদের টাইমলাইনে বিরাজ করছেন প্রেরণা দাস। শুরুটা করেছিলেন ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, ইউটিউবে মেকআপ ভিডিও দিয়ে। ধীরে ধীরে বিপুলভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর অন্য রকম কনটেন্ট ক্রিয়েট করা শুরু করেন প্রেরণা। ট্রেন্ডিং বিষয়ের ওপরে তিনি মজার বা আগেবপ্রবণ অভিনয় ভিডিও ও রিল তৈরি করেন। স্ক্রিপ্ট লেখা, রেকর্ড থেকে এডিট, জনপ্রিয় ডিজিটাল ক্রিয়েটার- প্রেরণা, সবই করেন নিজের হাতে। যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়।
গত ডিসেম্বরের শেষে ভাইরাল হন প্রেরণা ও আরেক জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সৈকত দে। নেটমাধ্যমে ভেসে আসে তাঁদের বিয়ের ছবি। কাউকে না বলে চুপিসারে সৈকতের সঙ্গে সাত পাক ঘুরেছেন দু'জনে? সকলে শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেন। এরপরই সামনে আসে সত্যি। আসলে একটি গয়নার ব্র্যান্ডের প্রচারের জন্য এই কাজ করেছিলেন তাঁরা। যার ফলে অনেকেরই মন ভেঙেছিল।
কোলাব করে অর্থাৎ একই সঙ্গে অনেক কনটেন্ট বানান প্রেরণা, সৈকত, মুকুল, শুভরা। নেটিজেনরা কেউ প্রেরণার পাশে দেখতে চান সৈকতকে। তবে এরপর সৈকত তাঁর প্রেমিকাকে প্রকাশ্যে আনেন। আবার কারও ধারণা মুকুল বা শুভর সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে ফের সকলকে চমকে দিলেন প্রেরণা। সোশ্যালে আলাপ করালেন 'বিশেষ' একজনের সঙ্গে। তাহলে কি এই ব্যক্তিই তাঁর মনের মানুষ?
গত সোমবার প্রেরণা 'গুপ্তাজি'র সঙ্গে ছবি শেয়ার করেন। ক্যাপশনে লেখেন, 'হাই, মিস্টার গুপ্ত'। পাশে রয়েছে একটি হার্ট ইমোজি। জানা যাচ্ছে, এই 'মিস্টার গুপ্ত'-র নাম সার্থক গুপ্ত। বর্তমানে তাঁর প্রোফাইলের নাম 'বিংগুপ্তা'। যদিও শুরুতে তাঁর প্রোফাইলের নাম ছিল 'গুপ্তাজি'। যদিও তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা খুব বেশি না, সবে দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। তবে সত্যিই সার্থকের সঙ্গেই প্রেরণা প্রেম করছেন? নাকি ফের কোনও প্রচার কৌশল, সে উত্তর সময়ই দেবে।
প্রসঙ্গত, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্যান্য সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে নিখুঁত পোস্ট, ট্রেন্ডিং রিলস, দুর্দান্ত ফ্যাশন, সব মিলিয়ে রাতারাতি না হলেও- কিছুটা পরিশ্রম করেই আজকের যুগে যে কোনও কেউ তারকা হয়ে উঠতে পারে। কাটাতে পারেন স্বপ্নের জীবন। ফলে এই ডিজিটাল যুগে, অনেকেই হতে চাইছেন ইনফ্লুয়েন্সার। চলছে লাইক- ভিউয়ের লড়াই। কোভিডের সময় থেকে ক্রমেই বাড়ছে এই ইনফ্লুয়েন্সারদের সংখ্যা। ফলে বাজার এখন আগের থেকে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক।
বর্তমানের সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার নামটি ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয়। বহু মানুষ তাদের অনুসরণ করেন। শহর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলেও বর্তমান সময়ে, ইউটিউবার বা ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারদের খুঁজে পাওয়া যায়। এই সকল ইনফ্লুয়েন্সাররা তাদের পেজ বা চ্যানেল মনিটাইজ করে বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। আগে মূলত ইউটিউবাররা জনপ্রিয় হলেও, যত দিন যাচ্ছে বাড়ছে ইনস্টা, ফেসবুক ইনফ্লুয়েন্সারদের সংখ্যা।