
মমতা, ইমন, শমীক (ছবি ফেসবুক)আলোচনায় থাকেন ইমন চক্রবর্তী। রিয়্যালিটি শো 'সারেগামাপা' থেকে শুরু করে রক্তদান, সব কিছুতেই ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছেন তিনি। রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়ার ধরন থেকে শাখা-পলা না পরা, কোনও কিছুই বাদ যায়নি ট্রোলিংয়ের তালিকা থেকে। সম্প্রতি বঙ্গবিভূষণ সম্মান এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে কম কটাক্ষ করা হয়নি তাঁকে। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ ইমনের মুখে শোনা গেল বিজেপি-র শমীক ভট্টাচার্যের প্রশংসা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ইমন। একটি পডকাস্টে এসে হঠাৎ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ শিল্পী। ইমনের মুখে শোনা যায়, "আমি শমীক ভট্টাচার্যের বীভৎস ফ্যান। ১০০ শতাংশ আমি ওঁর ফ্যান। কয়েকদিন আমি ওঁর একটা সাক্ষাৎকার দেখছিলাম, কী ভাল আবৃত্তি করেন। কী ভাল লেগেছে আমার ইন্টারভিউটা। তার পর থেকে আমি ওঁর ফ্যান হয়ে গিয়েছি। কারও সম্পর্কে একটা অযাচিত খারাপ কথা নয়, কী সুন্দর করে কথা বলেন। আমি এখানেই জানালাম আমি কিন্তু আপনার একজন বড় ফ্যান"।
যদিও গোটা ভিডিওটি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওর এই অংশটিই শেয়ার হয়েছে এবং তা মুহূর্তে, ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। কমেন্ট বক্স ভরেছে বেশিরভাগই নেতিবাচক মন্তব্যে। একজন লিখেছেন, 'যেই বুঝেছেন হওয়া ঘুরে যেতে পারে অমনি পাঁচালি ছেড়ে আবৃত্তি...।' আরেকজন লিখেছেন, 'এই রে, তৃণমূলে কিছু সুবিধা করতে পারল না, এবার বোধহয় বিজেপিতে'। এক নেটিজেনের মন্তব্য, 'প্ল্যান এ না হলে প্ল্যান বি'।

ট্রোলিংয়ে জেরে কিছুদিন আগে ফেসবুকে লাইভে এসে গায়িকা ঘোষণা করেছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আর ব্যক্তিগত পোস্ট করবেন না তিনি। শুধুমাত্র কাজের মাধ্যম হিসাবেই তাঁর পেজ ব্যবহার হবে। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে সমহিমায় ফিরেছেন তিনি। ইমনকে নিয়ে চর্চা ছিল, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নাকি প্রার্থী হবেন তিনি। এমনকি গুঞ্জন ছিল, উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকেই নাকি ভোটে লড়বেন তিনি। পরে প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম না থাকায়, নিন্দুকদের কথা শোনাতে ছাড়েননি গায়িকা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত স্নেহের তিনি। একথা প্রায় সকলেরই জানা। তাঁর বাড়ির কালীপুজোয় স্বামী নীলাঞ্জন ঘোষের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে মন্দির উদ্বোধনেও গিয়েছেন কিছুদিন।
প্রসঙ্গত, এবছর আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের দিন, রাজ্য সরকার বঙ্গ সম্মানে সম্মানিত করেন একগুচ্ছ শিল্পীকে। বঙ্গবিভূষণ সম্মান পান ইমন চক্রবর্তীও। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই, শিল্পীর দিকে ধেয়ে আসে কটাক্ষ। নিন্দুকরা দাবি করেন, নিজের যোগ্যতায় নয় উল্টে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার জেরেই এই সম্মান দেওয়া হয় 'পাঁচালি গায়িকা' ইমনকে। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও বারবার কটাক্ষের শিকার হয়েছেন ইমন। একদিকে নেটিজেনরা যেমন তাঁকে এক হাত নিয়েছেন, গালমন্দ করেছেন, সেরকমই গায়িকাও ছাড়েননি নিজের সাফাই দিতে।