একটা সময় ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত ও বরখা সেনগুপ্তের দাম্পত্য দেখে অনেকেই ঈর্ষা করতেন। তাঁদের রসায়ন অনেকেরই নজর কাড়ত। কিন্তু হঠাৎ করে কী যে হল ১৪ বছরের সেই দাম্পত্যে চিড় দেখা দিল। সেই সময় ইন্দ্রনীলের সঙ্গে ইশা সাহার সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। দুবছর আগেই ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে ইন্দ্রনীল ও বরখার। আর এবার সেই ভাঙা দাম্পত্য নিয়ে মুখ খুললেন বরখা বিস্ত।
এতদিন ডিভোর্স নিয়ে কোথাও সেভাবে মুখ খুলতে দেখা যায়নি বরখাকে। কিন্তু এবার এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন স্বামীকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন দেবের নায়িকা। ইন্দ্রনীল বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণার করেছেন বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন বরখা। বরখা বলেন, 'ইন্দ্রনীল নিজের কারণেই এই বিয়েটা থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। যদি আমার হাতে সবটা থাকত তবে আমরা হয়তো এখনও স্বামী-স্ত্রী হিসাবে সুখে সংসার করতাম। আমাদের সুখের সংসার ছিল। কিন্তু শেষ চার বছর ধরে আমি অনবরত প্রতারিত হয়ে গিয়েছি। অনেককিছু বুঝতে পেরেছি। হয়তো সেগুলো না বুঝলেই ভালো হত। প্রতারণাটাকে হয়তো ইন্দ্রনীল বিচ্ছেদের সহজ উপায় ভেবেছিল। নিজের পছন্দ মতো কাজ করেছে।'
বরখা আরও বলেন, 'বিয়ের ৪ বছর আমাদের দারুণ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তারপর থেকে ক্রমাগত আমাকে সবেতেই ছোট মনে করা হত। আমি যদি সব কিছুতেই নিজেকে কম ভাবতাম তা হলে সব কিছু ঠিক থাকত। আসলে বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা তো নিজের পছন্দের মানুষই করে।' বরখা আরও জানিয়েছেন যে ডিভোর্সের ঘটনা তাঁর শরীর ও মনে খুবই খারাপ প্রভাব ফেলেছিল। সেই প্রভাব নায়িকা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। প্রসঙ্গত, দুই পৃথিবীর পর খাদান ছবিতে বহু বছর পর দেবের সঙ্গে জুটি বাঁধতে দেখা যায় বরখাকে। সেই সুবাদে কলকাতায় একাধিক বার এসেছেন। সম্প্রতি এক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানেও বরখাকে পারফর্ম করতে দেখা যায়।
মেয়ে মাইরাকে নিয়েই বরখা এখন সুন্দর সময় কাটাচ্ছেন। নিজের মতো করে জীবনকে গুছিয়ে নিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত ইন্দ্রনীল-বরখার সম্পর্কে চিড় ধরার জন্য অভিনেত্রী ইশা সাহাকে অনেকেই দায়ি করেন। যদিও ইন্দ্রনীল বা ইশা দুজনের কেউই এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। বছর চারেক আগে ‘তরুলতার ভূত’ ছবিতে প্রথম বার জুটি বেঁধেছিলেন ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত ও ইশা সাহা। আর সেই বছরই বরখার সঙ্গে সংসার না করার সিদ্ধান্ত নেন ইন্দ্রনীল।