ইদ উপলক্ষে আনন্দে মেতেছে গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশেও উৎসবের পরিবেশ। পবিত্র ইদুল ফিতরের নামাজ শেষে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দেশের সব জায়গায় ইদের জামাতে যারা শরীক হয়েছেন ও নারী-প্রবাসী শ্রমিকসহ সবাইকে ইদের শুভেচ্ছা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ইদের এই দিনটা আর দশটা দিনের মতো নয়। আনন্দের এদিন সেদেশের কারাগারগুলোতেও ভিন্ন আবহ। কারাবন্দিদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ খাবারের। ইদের নামাজের জামাতে শরিক হন কারাবন্দিরাও।
গত বছরের ৫ অগাস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রাক্তন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকেই গ্রেফতার হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে আছেন। এবার প্রথমবারের মতো তাঁদের ইদুল ফিতরের দিন কাটছেকারাগারের চার দেওয়ালের মধ্যে। সূত্রের খবর, ৫ গাস্টের পর হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা মামলায় এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রাক্তন মন্ত্রী, এমপি, শীর্ষস্থানীয় নেতা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৩১ জন কারাগারে আছেন। তাঁদের মধ্যে ডিভিশন পেয়েছেন ১০৮ জন, যাঁদের মধ্যে প্রাক্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ২৯ জন, প্রাক্তন সংসদ সদস্য ২২ জন, সরকারি কর্মকর্তা ৪৪ জন এবং অন্যান্য পেশার ১৩ জন। ডিভিশন পাননি ভিআইপি হিসেবে কারাগারে থাকছেন ২৩ জন। এবারও পবিত্র ইদুল ফিতরের দিনে কারাগারে থাকা সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের ‘দূরত্ব’ ঘুচে যাবে। সবার জন্য থাকবে একই ব্যবস্থা।
বন্দিদের জন্য ইদের বিশেষ খাবার
ইদের দিন সকালে বন্দিরা মুড়ি ও পায়েস খেয়ে দিন শুরু করবেন। সকালে তাদের জন্য মুড়ি, পায়েস ও সেমাই পরিবেশন করা হয়।
দুপুরের খাবারে-
গরুর মাংস
মুরগির রোস্ট
ডিম
সফট ড্রিঙ্ক
সালাড ও পান-সুপারি
যারা গরুর মাংস খান না, তাদের জন্য খাসির মাংসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাতের খাবারে বন্দিদের জন্য-
সাদা ভাত
রুই মাছ
আলুর দম ও ডিম।
অন্যদিকে সারা বছর সাধারণ বন্দিদের সকালে দেওয়া হয় হালুয়া, রুটি ও ডিম। দুপুরের খাবারের তালিকায় থাকে ভাত, ডাল, সবজি। রাতে খাবার দেওয়া হয় ভাত, ডাল, মাছ বা গরুর মাংস। আর ডিভিশন পাওয়া বন্দীদের খাবার তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা রান্নার ব্যবস্থা করা হয়।
বিশেষ সুবিধা ও আয়োজন
ইদ উপলক্ষে বন্দিদের জন্য কিছু অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ইদের দিনে বন্দিরা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে পাঁচ মিনিট বেশি সময় মোবাইল ফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। ইদের দ্বিতীয় দিনে বন্দিদের জন্য বিশেষ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ওইদিন বন্দিদের স্বজনরা বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে আসতে পারবেন, তবে তা কারা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম মেনে প্রবেশ করাতে হবে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ইদের দিন বন্দিদের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে তারা অন্তত একদিনের জন্য ইদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।