মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সর্বোপরি একটি দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসটাই মুছে ফেলতে একের পর এক স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে। কট্টরপন্থী জামাতদের বন্ধু ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশকে যে পাকিস্তানের হাতে তুলে দিতে বদ্ধপরিকর, তার আরও একটি উদাহরণ ঢাকা পুলিশের একটি সিদ্ধান্ত। ঢাকা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের বর্ষীয়ান যোদ্ধা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকি সহ আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হবে।
১৬ জনকে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়েছে
ঢাকা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমি 'প্রথম আলো' রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৬ জনকে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। যাঁরা আটক হয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রাক্তন মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কুরজোন, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, আরও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা, প্রাক্তন আমলা এবং সমাজের প্রবীণ ব্যক্তিত্বরা।
স্লোগান তোলে, 'জুলাইয়ের অস্ত্র আবার গর্জে উঠুক, একটা লীগ ধরো, জেলে পাঠাও'
ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) অডিটোরিয়ামে ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক আলোচনায় যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিল সদ্য গঠিত ‘মঞ্চ ৭১’। সভা শুরু হওয়ার কিছু পরেই প্রায় ২৫ জন যুবক হঠাৎ সেখানে ঢুকে পড়ে। নিজেদের পরিচয় দেয় ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলে। তাঁরা সভার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে, অংশগ্রহণকারীদের মারধর করে এবং স্লোগান তোলে, 'জুলাইয়ের অস্ত্র আবার গর্জে উঠুক, একটা লীগ ধরো, জেলে পাঠাও।'
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
পুলিশ জানায়, প্রথমে ওই প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যদের তারা জনতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তুলে নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ১১ ঘণ্টা পরই পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, 'সব রাজনৈতিক মতের মুক্তিযোদ্ধাদেরই ডাকা হয়েছিল। সভা শুরু হতেই ২৫-৩০ জন ছেলে এসে অশান্তি শুরু করে।' ডিআরইউ কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা দিতে। পরে পুলিশ এসে তাঁদের বের করে নিয়ে যায়।
মুক্তিযোদ্ধা ও আইনজীবী জেড আই খান পান্না, যিনি অসুস্থতার কারণে সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি, ভিডিও বার্তায় এই হামলাকে 'দুষ্কৃতীদের কাজ' বলে আখ্যা দেন। তাঁর কথায়, 'এটা প্রমাণ করে দেশে এখন মুক্তভাবে মত প্রকাশের অবস্থা কতটা শোচনীয়।' ডিআরইউ পরে এক বিবৃতিতে জানায়, 'ডিআরইউ মুক্ত মঞ্চ। এখানে সবাই কথা বলতে পারেন। হুমকি বা বাধা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।'
গত বছর জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ বা ‘জুলাই বিদ্রোহ’-এর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লিগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিমানে চড়ে দেশ ছাড়েন। তার তিন দিন পর শিক্ষার্থীদের মনোনীত প্রার্থী নোবেলজয়ী অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন।
‘মঞ্চ ৭১’ এই মাসেই নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করে। তাদের দাবি, তারা মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৭২ সালের সংবিধান, জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীতের পক্ষে কাজ করবে। এদিকে বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, দেশে এখন এমন সব চেষ্টা চলছে যাতে মানুষ মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে যায়। তাঁর কথায়, 'যাঁরা একসময় শত্রুদের পক্ষ নিয়েছিলেন, তাঁরাই এখন সবচেয়ে জোরে কথা বলছেন। কিন্তু আমরা যাঁরা ১৯৭১ সালে লড়েছি, আমরা কিছুতেই সেটা ভুলব না।'