America Vote: মিডটার্ম ভোটে কেন হার ট্রাম্পের দলের? যুদ্ধকে দায়ী করে যা বললেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি দীর্ঘ বিবৃতিতে ভ্যান্স নিজের মনের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, রিপাবলিকানদের হারের প্রধান কারণ সমর্থকদের ভোট দিতে না যাওয়া নয়। বরং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটিকে যাঁরা ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের একটি বড় অংশ ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দল বদলে ফেলেছেন।

Advertisement
মিডটার্ম ভোটে কেন হার ট্রাম্পের দলের? যুদ্ধকে দায়ী করে যা বললেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টআমেরিকার ভোটে কেন হার রিপাবলিকানদের? (ছবি: এজেন্সি)
হাইলাইটস
  • সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি দীর্ঘ বিবৃতিতে ভ্যান্স নিজের মনের কথা তুলে ধরেন
  • রিপাবলিকানদের হারের প্রধান কারণ সমর্থকদের ভোট দিতে না যাওয়া নয়
  • একটি বড় অংশ ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দল বদলে ফেলেছেন

আমেরিকার কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। হার হয়েছে রিপাবলিকানদের। কিন্তু কেন এই ভরাডুবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের? মধ্যবর্তী নির্বাচনে (মিডটার্ম ইলেকশনে) এই বিপর্যয়ের জন্য ইরান সঙ্গে যুদ্ধ এবং ইজরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককেই দায়ী করলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যাঁরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই প্রশাসনের নীতির প্রতিবাদ করেছেন। দল বদলে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি দীর্ঘ বিবৃতিতে ভ্যান্স নিজের মনের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, রিপাবলিকানদের হারের প্রধান কারণ সমর্থকদের ভোট দিতে না যাওয়া নয়। বরং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটিকে যাঁরা ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের একটি বড় অংশ ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দল বদলে ফেলেছেন।

অভ্যন্তরীণ সমীক্ষার উল্লেখ করে ভ্যান্স ভোটারদের ক্ষোভের পিছনে চারটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। সেগুলি হল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ, 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির প্রতি প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন এবং ইজরায়েলের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক নিয়ে অসন্তোষ।

ভ্যান্স লেখেন, 'আমাদের পরাজয়ের কারণ যুদ্ধ।' ইরানের সঙ্গে সংঘাত যে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দর থেকে এই প্রথম এত স্পষ্টভাবে তা স্বীকার করলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

ভ্যান্স জানান, নির্বাচনের আগে তিনি এক রাজনৈতিক বিশ্লেষককে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, সমীক্ষার ফলাফল কি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নির্বাচনের রাতে রিপাবলিকানরা কোনও অপ্রত্যাশিত চমক দিতে পারে?

জবাবে ওই বিশ্লেষক বলেছিলেন, 'না। সমীক্ষার তুলনায় আমাদের ফল কিছুটা ভাল হতে পারে। কিন্তু তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে ট্রাম্প-ভ্যান্সকে ভোট দেওয়া অনেক মানুষ ক্ষুব্ধ এবং তাঁরা অন্য দলকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। আমাদের ভোটাররা ভোট দিতে আসছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁরা আমাদের ভোট নাও দিতে পারেন।'

ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, ওই বিশ্লেষকের পূর্বাভাসই শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ফ্লোরিডার কথা তুলে ধরেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, সেখানে রিপাবলিকান ভোটারের সংখ্যা ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি ছিল। ২০২৪ সালের তুলনায় এই ব্যবধান সামান্য কম। তাঁর মতে, এর থেকেই বোঝা যায়, দলের প্রধান সমস্যা শুধু সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা ছিল না।

Advertisement

ভ্যান্স বলেন, 'মূল সমস্যা হল, ২০২৪ সালে যাঁরা ট্রাম্প-ভ্যান্সকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই ২০২৬ সালে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।'

রিপাবলিকানদের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা যুদ্ধ
ভ্যান্স জানান, রাজনৈতিক সমীক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে রিপাবলিকান ভোটারদের দল ছাড়ার কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেয়েছিলেন তাঁরা।

তিনি জানান, তাঁর পরিচিত অন্যতম বুদ্ধিমান রাজনৈতিক বিশ্লেষক আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। সাধারণ ভোটে ডেমোক্র্যাটদের কাছে ১৩ শতাংশ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়বে রিপাবলিকানরা। উল্লেখ্য, জেনেরিক ব্যালট হল এমন একটি সমীক্ষা, যেখানে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন রাজনৈতিক দলের হাতে থাকা উচিত। এখানে নির্দিষ্ট কোনও প্রার্থীর নাম জানতে চাওয়া হয় না।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে
এমন পরিস্থিতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সেনেট, কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

এই ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বড় ধাক্কা। নির্বাচনের আগে তিনি রিপাবলিকান সমর্থকদের কাছে এই ভোটকে তাঁর প্রেসিডেন্সির উপর গণভোট হিসেবে বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটারদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

এর ফলে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির শেষ দু'বছরে তাঁর প্রশাসনের কাজকর্মের উপর নজরদারি চালাতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা আরও বাড়বে ডেমোক্র্যাটদের। কংগ্রেসের কমিটির মাধ্যমে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, সরকারি আধিকারিকদের তলব এবং সমন জারি করার ক্ষমতাও থাকবে তাদের হাতে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, অভিবাসন নীতি এবং অর্থনীতি সামলানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও ট্রাম্প প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে হতে পারে।

 

POST A COMMENT
Advertisement