US Mid Term Election 2026: ট্রাম্পের শিরে সংক্রান্তি? ডেমোক্র্যাটরা তো সেনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে চলেছে

বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন। এই নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কোন দলের হাতে—রিপাবলিকান না ডেমোক্র্যাটদের। হেরে গেলে কি ইমপিচড হবেন ট্রাম্প?

Advertisement
ট্রাম্পের শিরে সংক্রান্তি? ডেমোক্র্যাটরা তো সেনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে চলেছেমার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন
হাইলাইটস
  • বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট
  • সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে ডেমোক্র্যাটরা
  • হেরে গেলে কি ইমপিচড হবেন ট্রাম্প?

৪ বছরের মেয়াদে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু মেয়াদের অর্ধেক সময় পেরোতেই এবার বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে তিনি। আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন। এই নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কোন দলের হাতে—রিপাবলিকান না ডেমোক্র্যাটদের।

মার্কিন কংগ্রেসের দু'টি কক্ষ—সেনেট ও হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস। এই দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ২৩ কোটিরও বেশি মার্কিন নাগরিক। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের সবক'টি আসন এবং সেনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হচ্ছে। বর্তমানে দুই কক্ষেই এগিয়ে গিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।

টেক্সাস, কানসাস, ওকলাহোমা ও মিশিগান-সহ আমেরিকার ৩৬টি রাজ্যে নতুন গভর্নর নির্বাচনের জন্যও ভোটগ্রহণ হচ্ছে।

একদিকে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে লড়াই করছে রিপাবলিকানরা। নির্বাচনের ফলাফল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, বর্তমান ট্রেন্ডে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এমনকী, সেনেটেও তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। তার উপর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হারও রেকর্ড পরিমাণে কমেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভর করে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা, তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং এমনকী তৃতীয়বার ইমপিচমেন্টের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। কোন কোন বিষয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপর?

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কী?
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ৪ বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি ২ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয় এই মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সেনেটের সদস্যদের নির্বাচন করা হয়। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫টি আসনেই ভোট হচ্ছে। অন্যদিকে, ১০০ আসনের সেনেটে ৩৬টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। 

এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে কোনও ভোট হয় না। তবে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হয় এই ভোটের মাধ্যমে। এর উপরই নির্ভর করে প্রেসিডেন্ট কতটা সহজে আইন প্রণয়ন করতে পারবেন, বিচারপতি নিয়োগ করতে পারবেন এবং নিজের মেয়াদের বাকি দু'বছর প্রশাসন চালাতে পারবেন।

Advertisement

বর্তমানে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা ২১৮, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪। দুটি আসন ফাঁকা রয়েছে। অন্যদিকে, সেনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। দুই কক্ষের যেকোনও একটিতে নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত ৪টি আসন বাড়াতে হবে। নির্বাচিত নতুন জনপ্রতিনিধিরা ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

তৃতীয়বার ইমপিচমেন্টের মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প?
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অন্যতম বড় আশঙ্কা ইমপিচমেন্ট। এর আগে প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন দু'বার ইমপিচমেন্টের মুখে পড়েছেন তিনি। প্রথমবার ২০১৯ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপর চাপ সৃষ্টি করে জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করানোর অভিযোগে তাঁকে ইমপিচ করা হয়েছিল। দ্বিতীয়বার ২০২১ সালে ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটলে হামলার ঘটনায় তাঁর ভূমিকার জন্য ইমপিচমেন্টের মুখে পড়েন ট্রাম্প। তবে দুই ক্ষেত্রেই সেনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় শেষ পর্যন্ত তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি। এবার হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয়বার ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। 

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাউসের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস জানিয়েছেন, ক্ষমতা ফিরে পেলে তাঁরা ইমপিচমেন্টের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে তার আগে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের উপর জোর দিতে চান তাঁরা। যদিও কোনও প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করা সহজ নয়। এর জন্য হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাশ করতে হবে। এরপর সেনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সেনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন জোগাড় করা বড় চ্যালেঞ্জ। 

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে শুরু হতে পারে একাধিক তদন্ত
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু হতে পারে। শুধু প্রেসিডেন্ট নন, তাঁর প্রশাসন এবং পরিবারের ব্যবসায়িক লেনদেনও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। হাউসের নিয়ন্ত্রণ হাতে এলে বিভিন্ন কমিটির দায়িত্ব নিতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। পাশাপাশি, সাবপিনা জারি করার ক্ষমতা অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে কিংবা তদন্তে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করতে পারবেন তাঁরা।

ট্রাম্প পরিবারের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক লেনদেন এবং সম্পত্তি বৃদ্ধি, প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযান, জেফরি এপস্টিন তদন্তের পরিচালনা এবং সরকারি সিদ্ধান্তে কর্পোরেট সংস্থাগুলির প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তদন্তের আওতায় আসতে পারে। এছাড়াও ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশনীতি, কেন্দ্রীয় সরকারের খরচ এবং হোয়াইট হাউসে প্রস্তাবিত নতুন বলরুম নির্মাণ নিয়েও তদন্ত হতে পারে।

থমকে যেতে পারে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা
হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস অথবা সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। হাউসের নিয়ন্ত্রণ থাকলে কোন বিল নিয়ে ভোটাভুটি হবে, তা নির্ধারণ করতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকানদের আনা প্রস্তাব আটকে দেওয়া বা বিলম্বিত করাও সম্ভব হবে। নিজেদের প্রস্তাব পাশ করানোর সুযোগও থাকবে তাঁদের। সেনেটেও ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে ট্রাম্পের জন্য। তখন দুই কক্ষের আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ার উপরই নিয়ন্ত্রণ থাকবে ডেমোক্র্যাটদের। তবে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলেও ট্রাম্পের সমস্ত ক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। পাশাপাশি, অভিবাসন নীতি, শুল্ক এবং বিদেশনীতি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভ অর্ডার জারি করে নিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সুযোগও থাকবে তাঁর।

গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে সমস্যা
সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে পারেন ট্রাম্প। এই ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে সেনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটরা চাইলে শুনানি পিছিয়ে দিতে পারেন, ভোট আটকে দিতে পারেন অথবা মনোনীত প্রার্থীদের নিয়োগের প্রস্তাব খারিজ করতে পারেন। 

Advertisement

এই সম্ভাবনা সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন হোয়াইট হাউস। অগাস্ট মাসে মাত্র ন'দিনের মধ্যে ১৩ জন বিচারপতি নিয়োগের জন্য মনোনয়ন ঘোষণা করেছিল আমেরিকা সরকার। 

ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাবেও পড়তে পারে ধাক্কা
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ব্যালটে না থাকলেও এই নির্বাচন তাঁর দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্সির কাজকর্মের উপর একপ্রকার গণভোট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রিপাবলিকানরা ভাল ফল করলে দলের উপর ট্রাম্পের প্রভাব আরও শক্তিশালী হবে। অন্যদিকে, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয় হলে দলের অন্দরেই ট্রাম্পের বিরোধীরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেন। 

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে না, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি দু'বছরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও অনেকাংশে ঠিক করে দিতে পারে।

 

POST A COMMENT
Advertisement