ঝড়ের উপগ্রহ ছবি একসঙ্গে তিনটি ঝড় আছড়ে পড়তে চলেছে। আর তিনটিই ভয়ঙ্কর। এই ঝড়গুলির মধ্যে একটির নাম হ্যারিকেন পোলো। উপগ্রহের ছবিতে একসঙ্গে তিন ঝড়ের ছবি ধরা পড়েছে। ফলে আগামী দিনে প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আরও খারাপ আবহাওয়া তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর পিছনে রয়েছে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবও।
ভয় বাড়াচ্ছে হ্যারিকেন পোলো
এই তিন ঝড়ের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পোলো। মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া সুরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এই শক্তিশালী হ্যারিকেন। রবিবার সন্ধ্যায় ঝড়টি উপকূল থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দূরে ছিল। তখন ঝড়ের সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার।
সোমবার রাতে বাজা ক্যালিফোর্নিয়া সুরের উপকূলে পোলো আছড়ে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস। ঝড়ের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে। ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার গতিতে বাতাস বইতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
সবচেয়ে বড় ভয় বৃষ্টি নিয়ে। ওই উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। কিছু জায়গায় বৃষ্টির পরিমাণ ১২ ইঞ্চিও ছাড়াতে পারে। এর ফলে হড়পা বান এবং পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে।
একের পর এক ঝড়
শুধু পোলো নয়, উপগ্রহের ছবিতে আরও দুটি আবহাওয়া ব্যবস্থা দেখা গিয়েছে। পোলোর পিছনে একটি নতুন ট্রপিক্যাল ডিপ্রেসন তৈরি হচ্ছে। আবার হাওয়াইয়ের দক্ষিণ-পূর্ব দিকেও আরও একটি ঝড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থাৎ প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব ও মধ্য অংশে একসঙ্গে একাধিক ঝড় সক্রিয়। এর ফলে আগামী কয়েক দিনে ওই অঞ্চলের আবহাওয়া আরও অস্থির হতে পারে।
কেন এত ঝড়
এর পিছনে অন্যতম কারণ এল নিনো। এই পরিস্থিতিতে প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অংশের সমুদ্রের জল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি গরম হয়ে যায়। সেই গরম সমুদ্রের জল থেকে ঝড় আরও শক্তি পেতে পারে।
তবে শুধু এল নিনোই ঝড় তৈরির কারণ নয়। বাতাসের গতি, জলীয় বাষ্প এবং সমুদ্রের স্থানীয় তাপমাত্রার মতো আরও অনেক বিষয় ঝড়ের শক্তি ঠিক করে।
ভারতে কি প্রভাব পড়বে
হ্যারিকেন পোলোর সরাসরি ভারতে আসবে না। এই ঝড় মেক্সিকোর দিকে যাচ্ছে। তবে এল নিনোর প্রভাব ভারতের আবহাওয়ার উপর পড়তে পারে। IMD জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ দিকে এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে। এর প্রভাব ভারতীয় আবহাওয়ায় ঠিক কী হবে, তা নির্ভর করবে এল নিনোর পাশাপাশি অন্যান্য সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির উপর।
এল নিনো সাধারণত ভারতীয় বর্ষার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বর্ষার শেষ দিকে এর প্রভাব বেশি দেখা যেতে পারে বলে IMD জানিয়েছে। তাই প্রশান্ত মহাসাগরের এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা অবশ্য মেক্সিকোকে ঘিরেই। পোলোর পাশাপাশি আরও দুটি ঝড় সক্রিয় থাকায় প্রশান্ত মহাসাগরের এই অংশে আবহাওয়া অত্যন্ত অস্থির হয়ে উঠেছে।