Russia Attack Fears Europe : রাশিয়ার হামলার আশঙ্কা? যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু পোল্যান্ড-ফ্রান্স-জার্মানি-ফিনল্যান্ডের

জার্মানির লিপজিগ বিমানবন্দরকে ঘিরে ড্রোন ঘটনার পর রাশিয়ার সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড’ কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁও ওই ধরনের ঘটনাকে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হাইব্রিড হুমকির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

Advertisement
রাশিয়ার হামলার আশঙ্কা? যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু পোল্যান্ড-ফ্রান্স-জার্মানি-ফিনল্যান্ডের প্রতীকী ছবি
হাইলাইটস
  • । প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, গোয়েন্দাদের এমন
  • প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, গোয়েন্দাদের এমন আশঙ্কা রয়েছে যে ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ন্যাটো দেশগুলির ভূখণ্ডে রাশিয়া ড্রোন বা রকেট হামলা চালাতে পারে

ইউক্রেনের যুদ্ধ কি এবার ইউরোপের অন্য দেশগুলির দরজায় পৌঁছতে পারে? রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের কোনও নিশ্চিত ঘোষণা নেই, কিন্তু সম্ভাব্য হামলা ও নাশকতার আশঙ্কায় প্রস্তুতি শুরু করেছে ইউরোপের একাধিক দেশ। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ পূর্ব ইউরোপে। বিশেষ করে পোল্যান্ড ও বাল্টিক দেশগুলিতে। ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে শুরু করে সাইবার অ্যাটাক, নাশকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় আঘাত- বিভিন্ন ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি ধরে তৈরি হচ্ছে পরিকল্পনা। ফ্রান্স গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো রক্ষার পরিকল্পনা করছে, জার্মানি হাসপাতালগুলির প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে, আর লিথুয়ানিয়া, ফিনল্যান্ড ও লাটভিয়া জোর দিচ্ছে নাগরিক সুরক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তায়।

তাহলে কোন দেশগুলি সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত? কেনই বা তাদের নিয়েই এত আলোচনা? আর ইউরোপের এই প্রস্তুতি কি সত্যিই বড় যুদ্ধের ইঙ্গিত?

পোল্যান্ড- সবচেয়ে সরাসরি সতর্কবার্তা

রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট সতর্কবার্তা এসেছে পোল্যান্ড থেকে। প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, গোয়েন্দাদের এমন আশঙ্কা রয়েছে যে ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ন্যাটো দেশগুলির ভূখণ্ডে রাশিয়া ড্রোন বা রকেট হামলা চালাতে পারে।

পোল্যান্ডের ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ শুধু ইউক্রেনের সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য নয়। ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য পাঠানোর ক্ষেত্রে পোল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবেও কাজ করে। টাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও হামলাকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হতে পারে, যাতে ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তা পরীক্ষা করা যায়।

তবে ১৯ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ড সতর্কতামূলক বিমান অভিযান চালালেও দেশটির সেনাবাহিনী পরে জানায়, সেই সময় পোলিশ আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ প্রস্তুতি ও সতর্কতা বাড়লেও সেটিকে রাশিয়ার আসন্ন হামলার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া- রাশিয়ার সীমান্তের সবচেয়ে কাছের ন্যাটো দেশ

পোল্যান্ডের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বাল্টিক অঞ্চলে। লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া এবং এস্তোনিয়া- তিনটি দেশই ন্যাটোর সদস্য এবং রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ভৌগোলিক অবস্থান সরাসরি নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করে।

Advertisement

লিথুয়ানিয়া ইতিমধ্যেই বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতির জন্য মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করেছে। সম্ভাব্য সামরিক সংকটে বিপুল সংখ্যক মানুষকে কীভাবে সরানো হবে, কোন রাস্তা ব্যবহার করা হবে এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের জন্য কী ব্যবস্থা থাকবে- সেগুলিও পরিকল্পনার অংশ।

লাটভিয়াও রাশিয়া সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে এবং ড্রোন ও কাউন্টার ড্রোন ব্যবস্থা জোরদার করছে। বাল্টিক দেশগুলির উদ্বেগের একটি বড় কারণ হল, কোনও বড় সংঘাত হলে তাদের ভৌগোলিক অবস্থান ন্যাটো ও রাশিয়ার সম্ভাব্য মুখোমুখি অবস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হয়ে উঠতে পারে।

ফিনল্যান্ড- ড্রোন থেকে সাইবার হামলা, সব কিছুর প্রস্তুতি

রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে ফিনল্যান্ডের। তাই ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটির নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। ফিনল্যান্ডের প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে ড্রোন সংক্রান্ত সতর্কতা, বিমান হামলার ক্ষেত্রে নাগরিকদের কী করণীয় এবং সাইবার হামলা বা পরিকাঠামো বিপর্যয়ের মতো পরিস্থিতিতে জরুরি পরিষেবা চালু রাখার মহড়া।

এখানে আশঙ্কাটি শুধু প্রচলিত যুদ্ধ নয়। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবহণ বা সরকারি নেটওয়ার্কে সাইবার হামলা হলেও তার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে পড়তে পারে।

জার্মানি- যুদ্ধ হলে হাসপাতাল সামলাবে কীভাবে?

জার্মানির ক্ষেত্রে উদ্বেগের ধরন কিছুটা আলাদা। দেশটি সরাসরি রাশিয়ার সীমান্তে নয়, কিন্তু ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি এবং ইউক্রেনকে সমর্থনকারী প্রধান দেশগুলির একটি।

সেই কারণে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক জখম সেনা ও অসামরিক মানুষের চিকিৎসার প্রস্তুতি নিয়ে ভাবছে জার্মানি। Bloomberg-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের সামরিক হাসপাতালগুলির পাশাপাশি অসামরিক হাসপাতালগুলিকেও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

জার্মানির লিপজিগ বিমানবন্দরকে ঘিরে ড্রোন ঘটনার পর রাশিয়ার সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড’ কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁও ওই ধরনের ঘটনাকে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হাইব্রিড হুমকির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ফ্রান্স- হামলার আশঙ্কার চেয়ে ‘হাইব্রিড থ্রেট’ নিয়ে বেশি চিন্তা

ফ্রান্সের পরিস্থিতি আবার অন্যরকম। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ১৮ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন, ইউরোপ ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড থ্রেট’ বেড়েছে।

সম্ভাব্য ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সংবেদনশীল জায়গাগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

অর্থাৎ ফ্রান্সের ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রে এখনই রাশিয়ার স্থলসেনার সরাসরি হামলা নয়। বরং সাইবার আক্রমণ, নাশকতা, ড্রোন এবং তথ্যযুদ্ধের মতো কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তাহলে রাশিয়া প্রথমে কোথায় চাপ তৈরি করতে পারে?

বর্তমান প্রকাশ্য সতর্কবার্তাগুলি দেখলে তিনটি অঞ্চলকে আলাদা করে দেখা যায়। প্রথমত, পোল্যান্ড। ইউক্রেনের সঙ্গে সীমান্ত এবং ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরবরাহপথ হওয়ায় দেশটি বিশেষভাবে সতর্ক।

দ্বিতীয়ত, বাল্টিক অঞ্চল। লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান রাশিয়ার কাছাকাছি। ফলে সেখানে সামরিক ও সীমান্ত-নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেশি।

তৃতীয়ত, ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। ফ্রান্স, জার্মানি এবং অন্যান্য ন্যাটো দেশগুলির বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং সরকারি কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে সম্ভাব্য হাইব্রিড হামলার লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। সম্ভাব্য ‘টার্গেট’ নিয়ে আলোচনা করা আর রাশিয়া ওই জায়গাগুলিতে হামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—দুটি এক বিষয় নয়।

ন্যাটো কি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে?

মূল ভয় এখানেই। ন্যাটোর কোনও সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে জোটের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সামনে আসতে পারে। তাই ইউরোপীয় দেশগুলির কাছে ছোট কোনও ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও শুধুমাত্র একটি সীমিত ঘটনা নাও হতে পারে- পরিস্থিতি অনুযায়ী তা বড় কূটনৈতিক ও সামরিক সঙ্কট তৈরি করতে পারে।

এই কারণেই ইউরোপের দেশগুলি এখন শুধু সেনাবাহিনী নয়, হাসপাতাল, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সীমান্ত, আশ্রয়কেন্দ্র এবং সাধারণ নাগরিকদের জরুরি প্রস্তুতির উপরও জোর দিচ্ছে।

Advertisement

কিন্তু যুদ্ধ কি সত্যিই আসন্ন?

ইউরোপের দেশগুলি যে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেটি সত্য। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী রাশিয়ার সম্ভাব্য ড্রোন ও মিসাইল হামলার আশঙ্কার কথা বলেছেন এবং ফ্রান্স ‘হাইব্রিড থ্রেট’ নিয়ে নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা করছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে রাশিয়া ন্যাটোর কোনও দেশে হামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রকাশ্যে এমন কোনও নিশ্চিত প্রমাণও নেই যে নির্দিষ্ট কোনও ন্যাটো দেশকে রাশিয়া আসন্ন হামলার লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে।


ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ, রাশিয়া-ন্যাটো সম্পর্ক এবং ইউরোপে চলতে থাকা ড্রোন, সাইবার হামলা ও নাশকতার অভিযোগ- এই তিনটি বিষয়ই আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

POST A COMMENT
Advertisement