ভারতে Sugar Export করতে চাইছেন পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা, Trade Ban উঠবে?

চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর মধ্যে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছের। এই অনুমতি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

Advertisement
ভারতে Sugar Export করতে চাইছেন পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা, Trade Ban উঠবে?ভারতে চিনি পাঠাতে চাইছে পাকিস্তান।
হাইলাইটস
  • চিনির দাম বেড়েই চলেছে।
  • আমদানিতে ছাড় সরকারের।

ভারতে চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী। সংকট কাটাতে মজুতদারি নিয়ন্ত্রণ থেকে আমদানিতে ছাড়ের মতো পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এমন সময়ে ভারতীয় বাজারে চিনি বিক্রি করতে চাইছে পাকিস্তান। সরকার শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির দরজা খুলতেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে পাকিস্তানের চিনি শিল্প। একটি পাকিস্তানি দৈনিকের দাবি, পাকিস্তানে উদ্বৃত্ত চিনি। সেটাই ভারতে রফতানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে সে দেশের চিনিকল মালিকদের সংগঠন।

ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে। দুই দেশের সরাসরি বাণিজ্য কার্যত বন্ধ। বন্ধ রয়েছে আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত এবং বিমান যোগাযোগও। এই পরিস্থিতিতে ভারতের চিনি আমদানির সিদ্ধান্তকে সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখছে পাকিস্তানের চিনি শিল্প। পাকিস্তানের সংবাদপত্র ‘দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল’-এর বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রবীণ সদস্য ভারতকে উদ্বৃত্ত চিনি রফতানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য ইসলামাবাদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের বাড়তি চিনি ভারতে?

পাকিস্তান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়শনের সিনিয়র সদস্য চৌধুরী মহম্মদ ওয়াহিদ পাকিস্তান সরকারকে উদ্বৃত্ত চিনি ভারতে রফতানির অনুমতি দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। ওয়াহিদের বক্তব্য, পাকিস্তানের চিনি মালিকদের হাতে বর্তমানে ১২ লক্ষ টনেরও বেশি উদ্বৃত্ত চিনি রয়েছে। নতুন মরসুম শুরু হওয়ার আগে এই বিপুল মজুত চিনি কলগুলির উপর চাপ তৈরি করছে। আগামী মরসুমেও যদি ভাল আখের ফলন হয়, তা হলে মজুত আরও বেড়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কৃষকদের কাছ থেকে নতুন আখ কেনার অর্থ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। 

ওয়াহিদের বক্তব্য, পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দূরের বাজারের তুলনায় ভারতে চিনি পাঠালে পরিবহণ খরচ কম হতে পারে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রায় আয় হবে। চিনি কলগুলির নগদের জোগান বাড়বে। কমবে মজুত রাখার খরচ। আখ চাষিদের সময়মতো পাওনা মেটানোও সম্ভব হবে। তাঁর মতে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চিনির বাণিজ্য শুরু হলে অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি নতুন দরজাও খুলতে পারে।

পাক চিনি রফতানি সম্ভব?

Advertisement

পাকিস্তানের চিনি কি এ দেশে আনা সম্ভব হবে? এটাই বড় প্রশ্ন। এই মুহূর্তে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে এমন কোনও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নেই, যার আওতায় পাকিস্তান সরাসরি ভারতে চিনি পাঠাতে পারে। পাকিস্তানের চিনি শিল্প শুধু ইসলামাবাদকে এই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছে। বাস্তবে চিনি রফতানি করতে হলে দরকার দুই দেশের সরকারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন। মোদ্দা কথা, ভারতের আমদানির সিদ্ধান্ত আপাতত পাকিস্তানের কাছে বড় সুযোগ। কোনও চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তি নয়।

আমদানিতে ছাড় কেন্দ্রের

বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ১০ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। এই অনুমতি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। কেন্দ্রের দাবি, দেশের বাজারে চিনির জোগান বাড়ানো এবং বাড়তে থাকা দাম নিয়ন্ত্রণ করাই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য।

TAGS:
POST A COMMENT
Advertisement