ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদে বিরাট অভিযানইমরান খানের জেলমুক্তির দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিযান করার ডাক দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ। আর এই অভিযান রুখতে কার্যত যেন যুদ্ধ প্রস্তুতি চলছে পাকিস্তানের রাজধানী শহরে। রিপোর্ট মোতাবেক PTI (পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ)-এর কর্মকর্তা ও সমর্থকদের আটকাতে ইসলামাবাদকে অন্তত ২০,০০০ শিপিং কন্টেইনার দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। কন্টেইনারগুলো একসঙ্গে ঝালাই করে এবং বাইরের দিকে মুখ করা ধাতব কাঁটা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি কতটা খারাপ হতে পারে, তা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতালগুলোতে জায়গা তৈরি রাখতে নির্দেশ দিয়েছে পাক সরকার। এমনকী অতিরিক্ত রক্তের ব্যাগ রেডি রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইসলামাবাদের হাসপাতালগুলোকে একটি সম্ভাব্য সঙ্কট ও 'ব্যাপক হতাহতের ঘটনা'-র জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যার জেরে খুব প্রয়োজন না হলে, অস্ত্রোপচার স্থগিত করা হচ্ছে এবং মোটামুটি স্থিতিশীল রোগীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
পাকিস্তানের নামী সংবাদমাধ্যম ডন-এর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামাবাদের হাসপাতালগুলোকে কমপক্ষে ১০০ ব্যাগ রক্তের মজুদ রাখতে এবং সমস্ত অ্যাম্বুলেন্স ও তাদের চালকদের জরুরি অবস্থার জন্য সচল ও প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও, ২৭ সেপ্টেম্বরের মিছিল সামলাতে পঞ্জাব ও সিন্ধু থেকে ২০ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্যকে ইসলামাবাদে আনা হচ্ছে। বুধবার বিবিসি উর্দু জানিয়েছে, পাঞ্জাব সরকার রাওয়ালপিন্ডি, অ্যাটক, ঝিলাম ও মিয়ানওয়ালিতে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী পাকিস্তান রেঞ্জার্সকে তলব করেছে।
২২ সেপ্টেম্বর ডন-এর সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, "যে হারে কন্টেইনার বসানো হচ্ছে, পরিখা খোঁড়া হচ্ছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী তলব করা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে সরকার কোনও রাজনৈতিক মিছিল ঠেকাতে নয় বরং একটি আক্রমণ ঠেকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।"
পাক সরকার জানাচ্ছে, তারা বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে রাস্তা অবরোধ করতে বা জনজীবন ব্যাহত করতে দেবে না। ইসলামাবাদ হাইকোর্টও রায় দিয়ে জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর রাস্তা, হাইওয়ে বা অন্য কোনও জায়গা দখল করার কোনো আইনি অধিকার নেই। তবে তা সত্ত্বেও PTI বলছে মিছিল অনুষ্ঠিত হবেই এবং তাদের "লাখ লাখ কর্মী প্রস্তুত"।
হাসপাতালগুলি চরম অবস্থার জন্য তৈরি
কর্তৃপক্ষ কীসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ইঙ্গিত এসেছে ইসলামাবাদের হাসপাতালগুলো থেকে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ দাবি করেছে, ইসলামাবাদের হাসপাতালগুলোকে এমার্জেন্সি অবস্থায় রাখা হয়েছে। ব্লাড ব্যাঙ্কগুলোকে কমপক্ষে ১০০ ব্যাগ রক্তের মজুদ রাখতে বলা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স ও তার চালকদের প্রস্তুত থাকতে হবে এবং ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অক্সিজেনের মজুত বজায় রাখতে হবে। জরুরি বিভাগগুলোকেও বেড সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের কী দাবি?
PTI অর্থাৎ পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফের মূল দাবি হল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জেলমুক্তি। এরসঙ্গেই জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দামের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ শুরু করেছে। কৃষকেরাও ইমরান খানের সমর্থকদের সঙ্গে রাজধানীর দিকে মিছিল করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। কিসান ইত্তেহাদ পাকিস্তান এবং পিটিআই-এর কৃষক শাখা এই মিছিলে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।