প্রাথমিকভাবে এটি ড্রোন হামলা বলেই মনে করা হচ্ছে। Oman Ship Attack: ওমান উপকূলে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজে হামলা। প্রাণ হারালেন ভারতীয় নাবিক। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, আলোচ্য জাহাজে ১৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। প্রাথমিকভাবে এটি ড্রোন হামলা বলেই মনে করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক জাহাজের বাকি ১৩ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী। ঘটনায় আন্তর্জাতিক জলপথে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় জাহাজ পরিবহণমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, সোমবার 'এমএসভি আল জুসুফি' নামের এই জাহাজ ওমানের উপকূলের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় একটি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু এসে জাহাজটিতে আঘাত হানে। জাহাজে মোট ১৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও গুরুতর আহত এক নাবিকের মৃত্যু হয়। মৃতের নাম গন্ধর নাহিম আজিজ। তিনি গুজরাতের বাসিন্দা।
ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করেন সর্বানন্দ সোনোয়াল। তিনি জানিয়েছেন, ওমানে ভারতীয় দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। উদ্ধার হওয়া ১৩ জনকে প্রয়োজনীয় সাহায্য দেওয়া এবং তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বিপন্ন ভারতীয় নাবিকেরা
আমেরিকা, ইজ়রায়েল এবং ইরানের সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ক্রমেই ঝুঁকি বাড়ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ২২ জন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৪ জনই বাণিজ্যিক জাহাজের কর্মী।
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ। তার অনেকগুলিতেই ভারতীয় নাবিকরা ছিলেন। সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ভারতীয় নাগরিকদের নিয়োগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নয়াদিল্লি।
আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিশানা করার এই প্রবণতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, সমুদ্রপথে নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই জলপথে অস্থিরতা বাড়লে শুধু নাবিকদের জীবন নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহও বিপর্যস্ত হতে পারে।