FlyDubai Oman Co Pilot: ককপিটের কুড়ুল নিয়ে স্মিতকে আঘাত, জঙ্গি হামলা চালায় নিষিদ্ধ পাইলট আল-হাম্মানি

ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনাকে ‘জঙ্গি হামলা’ বলে উল্লেখ করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) সরকার। অভিযুক্ত পাইলট আল-কায়দার ফলোয়ার ছিল এবং আগাম জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

Advertisement
ককপিটের কুড়ুল নিয়ে স্মিতকে আঘাত, জঙ্গি হামলা চালায় নিষিদ্ধ পাইলট আল-হাম্মানিআল-হাম্মামি, স্মিথ মচ্ছর
হাইলাইটস
  • বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনা আদতে টেররিস্ট অ্যাটাক
  • অভিযুক্ত পাইলট আল-কায়দার ফলোয়ার
  • আগাম জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলেও ইঙ্গিত

ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনাকে ‘জঙ্গি হামলা’ বলে উল্লেখ করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) সরকার। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওমানের নাগরিক কো-পাইলট বিমানের এমারজেন্সি কুড়ুল দিয়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে আক্রমণ করেন। এরপর তিনি বিমানটি আছড়ে ফেলারও চেষ্টা করেন।

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী FZ1073 বিমানে তখন ১৭৪ জন ছিলেন। UAE-এর বিবরণ অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলার পর কো-পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে যাত্রী এবং বিমানের অন্য ক্রু সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে তাঁকে থামিয়ে দেন। ফলে তাঁর পক্ষে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

UAE-এর শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশও এই ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক জঙ্গি কর্মকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, X-এ একটি পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

কো-পাইলটের পরিচয় প্রকাশ্যে
কো-পাইলট ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামির পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁর অতীত নিয়েও কাটাছেঁড়া চলছে।

ওমানে আগেই বিমান চালানোয় নিষেধাজ্ঞা ছিল?
AP-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-হাম্মামিকে আগে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ওমান। তাঁর মধ্যে চরমপন্থী মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এরপর তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পান। তবে তাঁকে নিয়োগের আগে কতটা বিস্তারিতভাবে তাঁর ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা হয়েছিল এবং ওমানে তাঁর আগের উড়ান-সংক্রান্ত দায়িত্ব সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে ফ্লাইদুবাই কতটা তথ্য জানত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ওমান তাঁকে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করেছিল, এই তথ্য প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তদন্ত সম্পর্কে অবহিত এক আঞ্চলিক আধিকারিক এপি-কে জানিয়েছেন, আল-হাম্মামি আগে ওমান এয়ারে কাজ করতেন। চরমপন্থী মতাদর্শের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর তাঁকে বিমান চালানোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে ওই বিমান সংস্থায় প্রশাসনিক পদে বদলি করা হয়েছিল। ওই আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, আল-হাম্মামির জন্ম UAE-তে এবং তাঁর মা সিরিয়ার নাগরিক।

Advertisement

রয়্যাল এয়ার মারক-এও কাজ করেছিলেন?
ইন্ডিয়া টুডে, আল আরাবিয়া এবং অন্যান্য প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে আল-হাম্মামি Royal Air Maroc-এও কাজ করেছিলেন। এখন তাঁর অনলাইন কার্যকলাপও তদন্তের আওতায় এসেছে। এপি জানিয়েছে, তাঁর নাম করা একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বিমানের ওই ঘটনার দিন পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। পরে সেই অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়া হয়। ইন্ডিয়া টুডে আরও জানিয়েছে, তাঁর সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা অ্যাকাউন্টগুলির কিছু পোস্টে আল-কায়দার নেতাদের ছবি ছিল।

একাই হামলা, নাকি কোনও সংগঠনের সঙ্গে যোগ?
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, আল-হাম্মামি একাই এই হামলা করেছিলেন কি না, নাকি কোনও চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। তাঁর একাধিক পোস্টে ইঙ্গিত মিলেছে ওই ফ্লাইট ক্র্যাশ করানোর আগাম পরিকল্পনা করা ছিল কো-পাইলটটির। AP-কে এক গালফ কূটনীতিক জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চারটি আঞ্চলিক দেশের নিরাপত্তা সংস্থা তাঁর হামলার উদ্দেশ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এই তদন্তে আমেরিকা এবং অন্যান্য পশ্চিমী সরকারের কাছ থেকেও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, কো-পাইলট ‘ইসলামপন্থী চরমপন্থায়’ প্রভাবিত হয়েছিলেন। তবে AP উল্লেখ করেছে, এই দাবির সমর্থনে নেতানিয়াহু কোনও প্রমাণ দেননি।

আল-হাম্মামি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তিনি বিমানটি ইজরায়েলে ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলেন। তদন্তকারীরা এখনও হামলার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্যে ঘোষণা করেননি।

কীভাবে তিনি এই বিমান চালানোর সুযোগ পেলেন?

আল-হাম্মামি কীভাবে FZ1073 বিমানটি চালানোর দায়িত্ব পেলেন, সেই প্রশ্নও এখন তদন্তের অন্যতম বিষয়।ইজরায়েল ও ওমানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ইজরায়েলের বিদেশি বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে এমন কিছু ব্যবস্থা রয়েছে, যার আওতায় ইজরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা দেশগুলির নাগরিক পাইলটদের নিয়ে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা করা হয়। FZ1073-এর ঘটনায় তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে UAE। একাধিক দেশ এই তদন্তে অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে ইজরায়েলও রয়েছে।

তদন্তে এখন যে প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজা হচ্ছে

তদন্তকারীদের সামনে এখন মূলত কয়েকটি বিষয় রয়েছে, ওমানে আল-হাম্মামির আগের উড়ান-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, তা কীভাবে সামলানো হয়েছিল; ফ্লাইদুবাই তাঁর অতীত সম্পর্কে কতটা তথ্য জানত; তাঁর কোনও চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না; এবং কী কারণে তিনি ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করে FZ1073-এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত চলছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement