
থাইল্যান্ডে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে ব্যাগ গোছানোর আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তনের কথা। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতীয় সাধারণ পাসপোর্টধারী পর্যটকরা ভিসা ছাড়াই থাইল্যান্ডে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ ৩০ দিন থাকতে পারবেন। অর্থাৎ ভারতীয়দের জন্য থাইল্যান্ডের ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা থাকছে, তবে আগে যেখানে ৬০ দিন পর্যন্ত থাকার সুযোগ ছিল, তা কমিয়ে ৩০ দিন করা হচ্ছে।
ব্যাংককে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এই ভিসা ছাড়ের সুবিধা ব্যবহারকারী ভারতীয় পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও অন্যান্য শর্ত নিয়ে একটি পরামর্শ জারি করেছে। তাই থাইল্যান্ড যাওয়ার আগে কোন কোন বিষয় মাথায় রাখবেন, তা জেনে নেওয়া জরুরি।
১. ভারতীয়রা এখনও ভিসা ছাড়াই থাইল্যান্ড যেতে পারবেন
১৫ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ৩০ দিন পর্যন্ত থাকার জন্য ভারতীয় পর্যটকদের আগে থেকে ভিসার আবেদন করতে হবে না।
এই সংশোধিত ৩০ দিনের সীমা ভারতীয় সাধারণ পাসপোর্টধারী পর্যটকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর অর্থ থাইল্যান্ড ভারতীয়দের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণ বন্ধ করে দিচ্ছে না। ২০২৪ সালে চালু হওয়া ৬০ দিনের ভিসামুক্ত থাকার ব্যবস্থা এবার থাইল্যান্ডের সংশোধিত ভিসা-ছাড় নিয়ম অনুযায়ী কমিয়ে ৩০ দিন করা হচ্ছে।
২. পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ৬ মাস থাকতে হবে
ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে পৌঁছনোর তারিখ থেকে পাসপোর্টের অন্তত ৬ মাসের বৈধতা থাকতে হবে। তাই ভ্রমণের আগে পাসপোর্টের মেয়াদ অবশ্যই পরীক্ষা করে নিন। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি হলে আগে থেকেই তা রিনিউ করে নেওয়া ভাল। শুধু বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিং থাকলেই প্রবেশের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে না, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
৩. সঙ্গে রাখুন ফেরার টিকিট
ভিসা ছাড় সুবিধায় থাইল্যান্ডে যাওয়া ভারতীয় পর্যটকদের কাছে নিশ্চিত রিটার্ন টিকিট থাকা উচিত। অর্থাৎ শুধু বিমানের টিকিট কেটে থাইল্যান্ড গিয়ে পরে ফেরার তারিখ ঠিক করবেন, এমনটা না করাই ভাল। ভ্রমণের সময় আপনার কাছে ফেরার বা পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার টিকিটের প্রমাণ রাখা উচিত।
৪. হোটেল বুকিং ও ভ্রমণের পরিকল্পনাও রাখতে হবে
দূতাবাসের পরামর্শে নিশ্চিত হোটেল বুকিং এবং পরিষ্কার ভ্রমণ পরিকল্পনা ও প্ল্যান রাখার কথাও বলা হয়েছে। তাই হোটেল বা থাকার জায়গার বুকিংয়ের কনফার্মেশন এবং আপনার প্রাথমিক ভ্রমণ পরিকল্পনা ফোনে বা প্রয়োজনীয় নথির সঙ্গে হাতের কাছে রাখুন।
৫. পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সঙ্গে রাখতে হবে
থাইল্যান্ড ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দূতাবাসের পরামর্শ অনুযায়ী, ভিসা-ছাড় সুবিধায় যাওয়া পর্যটকদের মাথা পিছু অন্তত ২০ হাজার থাই নগদ সঙ্গে রাখা উচিত। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ আনুমানিক ৫৭ হাজার ৮৯৯ টাকা। ইমিগ্রেশনে আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ হিসেবে ক্রেডিট কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টই যথেষ্ট হবে, এমনটা ধরে নেওয়া উচিত নয়।
৬. ভুলবেন না Thailand Digital Arrival Card
থাইল্যান্ডে প্রবেশের আগে আরও একটি বাধ্যতামূলক কাজ রয়েছে, Thailand Digital Arrival Card বা TDAC পূরণ করা।ব আকাশপথ, স্থলপথ কিংবা সমুদ্রপথ, যে পথেই থাইল্যান্ডে প্রবেশ করুন না কেন, সমস্ত যাত্রীকেই TDAC পূরণ করতে হবে। থাইল্যান্ডের সরকারি TDAC ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রবেশের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই ফর্ম জমা দেওয়া যায়। ফর্ম পূরণ করার পর পাওয়া কনফার্মেশনটি পাসপোর্ট ও অন্যান্য ভ্রমণ নথির সঙ্গে হাতের কাছে রাখুন।
৭. থাইল্যান্ড যদি শুধু Transit point হয়?
যাঁদের চূড়ান্ত গন্তব্য থাইল্যান্ড নয়, তাঁদের জন্যও দূতাবাস বিশেষভাবে সতর্ক করেছে। থাইল্যান্ড যদি শুধু ট্রানজিট পয়েন্ট হয়, তাহলে যে দেশে শেষ পর্যন্ত যাবেন, সেই দেশের প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি ও ভিসা সঙ্গে রাখতে হবে। শুধু থাইল্যান্ড হয়ে যাতায়াত করছেন বলে চূড়ান্ত গন্তব্যের প্রবেশের নিয়ম থেকে ছাড় পাওয়া যাবে না।
অতএব, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য থাইল্যান্ডের ভিসামুক্ত সুবিধা থাকছে ঠিকই, তবে থাকার সর্বোচ্চ সময় ৬০ দিন থেকে কমে ৩০ দিন হচ্ছে। ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় নথি ও নগদ অর্থের ব্যবস্থা করে রাখলে ইমিগ্রেশনে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়ানো যাবে।