নতুন প্রজাতির বিড়ালসোশ্যাল মিডিয়ার ফিডে বিড়ালের একের পর এক মিষ্টি মিষ্টি ভিডিও আপনারও এসেছে। দেখে হেসেছেনও। আর ক্যাট লাভার হলে তো কথাই নেই। বিড়াল দেখলেই মন ভাল হয়ে যায়। কিন্তু এবার বিড়ালপ্রেমীদের জন্য রয়েছে আরও চমকপ্রদ খবর। প্রায় ১০০ বছর পর প্রথম বার বিড়ালের একটি নতুন প্রজাতির সন্ধান মিলেছে।
দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়ার জঙ্গলে দেখা মিলেছে এই নতুন প্রজাতির। এই বিড়ালকে টিলকায়ো নামে ডাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিজ্ঞানীরা এই বিড়ালের বিষয়ে জানতে পেরে প্রথমে বোঝার চেষ্টা করেন, অন্য বিড়ালের থেকে এটি এত আলাদা কেন। দীর্ঘ গবেষণা, ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণের পর জানা গিয়েছে, এটি আসলে সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্রজাতি।
দক্ষিণ আমেরিকায় যে ছোট আকারের বুনো বিড়াল গোষ্ঠীর দেখা মেলে, তাদের সাধারণ ভাবে টাইগার ক্যাট বলা হয়। এত দিন মনে করা হত, এই গোষ্ঠীর সব বিড়ালই একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু কয়েক দশক আগে জেনেটিক গবেষণায় স্পষ্ট, বিষয়টি তেমন নয়। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল টিলকায়ো।
কারেন্ট বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, টিলকায়ো সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের থেকেও ছোট। ব্রাজিলের বন্য বিড়ালদের মধ্যে যে ধরনের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, তার সঙ্গেও এই বিড়ালের বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। এর গায়ের লোম হালকা বাদামি এবং গোটা শরীর জুড়ে রয়েছে গাঢ় রঙের ছোপ। এই বৈশিষ্ট্যগুলিই বিজ্ঞানীদের কৌতূহলী করে তোলে। গবেষকদের মতে, শুধু চেহারা দেখে টাইগার ক্যাটদের প্রজাতি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু টিলকায়োর ডিএনএ বিশ্লেষণ করে চমকে যান বিজ্ঞানীরা।
এই প্রজাতির দু'টি বিড়ালকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি ৩৮টি বিড়ালের ডিএনএ নমুনা নিয়ে গবেষণা করা হয়। সেখান থেকেই জানা যায়, অন্যান্য টাইগার ক্যাটের বংশধারা থেকে টিলকায়োর বংশধারা প্রায় ১৫ লক্ষ বছর আগেই আলাদা হয়ে গিয়েছিল। নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে লেপার্ডাস টিলকায়ো (Leopardus tigrillo)। গবেষণায় আরও জানা গিয়েছে, টিলকায়োর বসবাসের এলাকায় ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। সেখান থেকে বিজ্ঞানীদের অনুমান, এই ধরনের ছোট প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে এই বিড়াল।
জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গায় ক্যামেরা বসিয়ে এই বিড়ালগুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ইঙ্গিত মিলেছে, তারা সম্ভবত রাতের দিকেই বেশি সক্রিয় থাকে। তবে এই নতুন প্রজাতির জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, প্রজনন এবং অন্যান্য জৈবিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
টিলকায়োর বিপদ
তবে নতুন প্রজাতির সন্ধান মিলেছে বলেই সবটা যে সুখবর, তা নয়। এই বুনো বিড়ালের বসবাসের জঙ্গলও নিরাপদ নয়। সেখানে দ্রুত হারে গাছ কাটা হচ্ছে, কৃষিকাজের জন্য জঙ্গল পরিষ্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে খননকাজ। জঙ্গলে মাঝেমধ্যেই আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে। অর্থাৎ নতুন এই প্রজাতির সামনে বিপদের ঘনঘটা নেহাত কম নয়।
তবে এই ছোট্ট বুনো বিড়ালের সম্পর্কে এখন গোটা বিশ্ব জানতে পারছে। ফলে গবেষকদের আশা, টিলকায়োকে রক্ষা করতে ভবিষ্যতে আরও নির্দিষ্ট এবং কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া হবে।