
নেপালজুড়ে আন্দোলন জেন জি-দের Gen Z-দের আন্দোলনের জেরে ভোটে জিতে নেপালেন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বালেন শাহ। এখন সেই আন্দোলনকারীরাই বালেনের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন। গত কয়েক দিন ধরে নেপালের জায়গায় জায়গায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি যে কোনও সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে সরকার। এই আন্দোলনে ঘৃতাহুতি দিয়েছেন কাঠমাণ্ডুর মেয়র ও বিরোধী দলনেতা। তাঁরাও প্রকাশ্যে বালেন শাহকে চেয়ার ছেড়ে দেওয়ার দাবি করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত কাঠমাণ্ডুতে। সেখানে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে এক অ্যাপ বাইক চালকের ঝামেলা হয়। সেই চালক গায়ে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গণেশ নামে সেই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য দিল্লি এইমসে আনা হয়। তবে শুক্রবার তিনি মারা যান।
মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই বিক্ষোভ শুরু হয় কাঠমাণ্ডুতে। হাজার হাজার যুবক-যুবতী রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেয় নেপালের বিরোধী রাজনৈতিক দলও।
যদিও বালেন শাহ সরকারের বিরুদ্ধে নেপালের আম আদমির ক্ষোভ এই প্রথম নয়। গত মাসে নেপালের প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছিলেন, 'নেপালও অনেক জায়গায় ভারতের ভূখণ্ড দখল করে আছে...', তার জেরেও তাঁকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল।
কাঠমাণ্ডুতে ঠিক কী হয়েছিল?
কাঠমাণ্ডুর ত্রিপুরেশ্বরী পাসপোর্ট অফিসের সামনে নো পার্কিং জোনে গণেশ নামের সেই ব্যক্তি বাইক পার্ক করেছিলেন। তার জেরে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ঘটনাস্থলে আসেন পুর কর্মকর্তারাও। তাঁরা গণেশকে বাইক সরিয়ে নিতে বলেন। তারপরই তাঁরা বাইকে হুইল লক লাগিয়ে দেন এবং তুলে নিয়ে চলে যান।
গণেশ পুলিশ ও পুর কর্তাদের বলেছিলেন, চালক থাকাকালীন বাইক তোলার এক্তিয়ার নেই আধিকারিকদের। ঘটনায় সামনে আসা CCTV ফুটেজে দেখা যায়, ঘণ্টাখানেক ধরে ঝামেলা চলার পর নিজের বাইক থেকে পেট্রোল বের করে গণেশ গায়ে ঢালেন ও আগুন ধরান। আশপাশে থাকা লোকজন ও পুলিশ সেই আগুন নিভিয়ে গণেশকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

নেপালের একাধিক প্রতিবেদনে প্রকাশ, তাঁর বাইক আগেও লক করেছিল পুলিশ। আগের সপ্তাহেই তাঁকে হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। আর তার জেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তিনি। বাড়িতেও সেই কথা জানিয়েছিলেন।
BBC নেপালের প্রতিবেদনে প্রকাশ, এই ঘটনার পর তিন দিনের মধ্যে আরও দুটি আত্মহত্যার চেষ্টা চালানো হয়। শুক্রবার সারলাহিতে ৩৫ বছর বয়সী বিবেক মণ্ডল আত্মাহুতির চেষ্টা করেন। শনিবার বুদ্ধনগরে ৪৫ বছর বয়সী অশ্বিন রাউতও একই ঘটনা ঘটান।পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান।
বিক্ষোভে পুড়ছে নেপাল
এদিকে গণেশের মৃত্যুর প্রতিবাদে কাঠমাণ্ডুতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মৃত বাইক চালকের জেলা মুগুরের বাসিন্দারা মাইতিঘর মণ্ডলায় সমবেত হন। তাতে অংশ নেন জেন জি আন্দোলনের অনেকে। সেখান থেকে তাঁরা সেই হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করেন যেখানে গণেশ ভর্তি ছিলেন। তবে পুলিশ পথ আটকে দেয়।
'সায়েন্টিফিক সোশ্যালিস্ট স্টুডেন্ট ইউনিয়ন'-ও মাইতিঘরে পৃথক একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। তাদের তরফেও বালেন শাহ সরকারের পতনের ডাক দেওয়া হয়। পোস্টারে লেখা ছিল, 'ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হোক', 'নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিন'।
এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন যুবক ও যুবতীরা। তাঁদের মতে, এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কোনও বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার ফল। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বিশৃঙ্খল পৌর পার্কিং ব্যবস্থাপনা, অত্যধিক ও শাস্তিমূলক জরিমানা এবং রাইড-শেয়ারিং চালকদের জন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষা বা আইনি সুরক্ষার অভাবই গোটা ঘটনার জন্য দায়ি। বিক্ষোভকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

উত্তাল নেপাল সংসদও
এই ঘটনার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে নেপালের সংসদেও। নেপালের প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেসের নেতা এমপি বাসনা থাপা বলেন, 'রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের কারণে যখন এক যুবক নিজের গায়ে আগুন দিল, তখনও রাষ্ট্র কেবল নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করল। কেন কর্তৃপক্ষ দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে ব্যর্থ হল?' তারপরই তাঁর সংযোজন, 'এবার সময় এসেছে বালেন শাহর কালো চশমা খুলে ফেলার।'
জাতীয় পরিষদে নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির আইনপ্রণেতা বিষ্ণু বাহাদুর বিশ্বকর্মা শাহর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, 'যদি নৈতিকতা বলে কিছু থাকে, তবে বালেন সরকারের পদত্যাগ করা উচিত।'