নেপালে হড়পা বান (ছবি: পিটিআই)প্রকৃতির ভয়াবহ রোষের মুখে নেপালে। হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৫০-এর গণ্ডি। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রচুর মানুষ। আর দুর্ভাগ্যের বিষয়, নিখোঁজের মধ্যে ১৩০ জনেরও বেশি ভারতীয়।
যতদূর খবর, ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের রাসুয়া ও ধাদিং জেলা। এই সব জায়গায় ভেসে গিয়েছে রাস্তা, ব্রিজ। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ধ্বংস হয়েছে। ইতিমধ্যেই জোরকদমে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে নেপাল সরকার। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতও।
মানস সরোবরের তীর্থযাত্রী নিখোঁজ
কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী বন্যার পর থেকে নিখোঁজ। এমনটাই জানিয়েছে নেপালের পর্যটন মন্ত্রক।
তারা আরও জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। যার ফলে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নিখোঁজ বা আটকে পড়া আত্মীয়দের সম্পর্কে জানতে ভারতীয় দূতাবাস এবং একাধিক রাজ্য সরকার হেল্পলাইন চালু করেছে। সাহায্যের জন্য পরিবারগুলি ৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং ৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।
কোথায় অবস্থা সবথেকে বেশি খারাপ?
সবথেকে বেশি বিপর্যস্ত তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত নেপালের রাসুয়া ও ধাদিং জেলা। এখান দিয়ে ভয়াবহ বন্যার জল বয়ে যায় ভোতে কোশি নদীতে। রাসুয়ার তিমুরে এলাকা দিয়ে সেই জল ত্রিশূলী নদীতে ঢুকে পড়ে। তারপর নীচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে নুয়াকোট, চিতওয়ান, গোর্খা, তানাহুন এবং নওয়ালপরাসি ইস্ট জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যতদূর খবর, কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় বন্যার প্রভাব পড়েছে।
ইতিমধ্যে এই হড়পা বানের একাধিক ভয়াবহ ভিডিও সামনে এসেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, প্রবল গতিতে জল বয়ে যাচ্ছে বাড়িঘরের উপর দিয়ে। জলের স্রোতে গাড়ি ভেসে যাচ্ছে। একের পর এক ব্রিজ ভেঙে পড়ছে।
যতদূর খবর, বন্যায় নেপালের পরিবহণ পরিকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৯টি গাড়ি চলাচলকারী ব্রিজ ভেসে গিয়েছে। নুয়াকোটের বেত্রাবতী থেকে রাসুয়ার রাসুয়াগাধি সীমান্ত পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাও বন্যার জলে ধুয়ে গিয়েছে। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, প্রবল স্রোতের ধাক্কায় সেতুগুলি কাঁপতে কাঁপতে ভেঙে পড়ছে। জলের সঙ্গে ভেসে যাচ্ছে।
বন্যার জেরে বেশ কয়েকটি দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ি এলাকাগুলিতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমেই চালানো হচ্ছে উদ্ধারকাজ।
এদিকে ইশা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যার সময় তাদের ৭৭ জন সদস্য একটি ইমিগ্রেশন সেন্টারে ছিলেন। তাঁদের এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদগুরু জানিয়েছেন, ইমিগ্রেশন অফিসে থাকা সদস্যদের সম্পর্কে এখনও কোনও সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর দাবি, ফাউন্ডেশনের ৪৯৫ জন সদস্য ইতিমধ্যেই নিরাপদে ফিরে এসেছেন। পরে নেপাল সরকার জানিয়েছে, ওই নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন সেন্টারের কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।