Nepal Clash: বিহার লাগোয়া নেপালে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সংঘর্ষ, পুলিশের গুলিতে হত যুবক; কার্ফু জারি

Nepal Clash: ভারতের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত নেপালের জেলায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের জেরে অশান্তির ঘটনায় মৃত্যু হল এক যুবকের। জানা গিয়েছে, লাউড স্পিকার বাজানো ও ধর্মীয় পতাকা প্রদর্শন নিয়ে প্রথমে অশান্তি বাঁধে।

Advertisement
বিহার লাগোয়া নেপালে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সংঘর্ষ, পুলিশের গুলিতে হত যুবক; কার্ফু জারিবিহার লাগোয়া নেপাল সীমান্তে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ
হাইলাইটস
  • সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নেপালের সুনসারি জেলা।
  • রবিবারে হিংসার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে একজনের।
  • সোমবার থেকেই ওই এলাকার বেশ কিছু জায়গায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নেপাল প্রশাসন।

দুটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সংঘর্ষ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নেপালের সুনসারি জেলা। রবিবারে এই অশান্তিতে হিংসার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে একজনের। পাশাপাশি জখম হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। ঘটনার পর সোমবার থেকেই ওই এলাকার বেশ কিছু জায়গায়  অনির্দিষ্টকালের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নেপাল প্রশাসন।

উল্লেখ্য বিষয় হল, নেপালের এই সুনসারি জেলার সঙ্গে ভারতের বিহারের বর্ডার রয়েছে। কোশি ব্যারেজের মতো ক্রসিং থাকায় দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট ও বাণিজ্য করিডোর হিসেবে কাজও করে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, সংঘর্ষের পর উত্তেজনা বেশি থাকায় মঙ্গলবারও সুনসারি জেলার কিছু অংশে টানা দ্বিতীয় দিনের জন্য কারফিউ জারি ছিল। সুনসারি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কারফিউ ও নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।

জানা গিয়েছে, রবিবার কাপ্তানগঞ্জ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার প্রথম এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসব চলাকালে বিবাদের জেরে সংঘর্ষরত দলগুলোকে ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশ গুলি চালালে একজন নিহত এবং নিরাপত্তাকর্মীসহ এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হন। জানা গিয়েছে, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা এখনও গুরুতর।

জেলা প্রশাসনের তরফে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সমগ্র হরিণনগর ও দেবগঞ্জ গ্রামীণ পুরসভা জুড়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি হরিণনগর, ভূতাহা, কাপ্তানগঞ্জ, ঘুস্কি ও দেবানগঞ্জের পাঁচটি বাজার এলাকায় কারফিউ জারি রয়েছে। উত্তেজনাপূর্ণ এলাকাগুলিতে  র‍্যালি, বিক্ষোভ, জনসভা, অবস্থান ধর্মঘট এবং চারজনের বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন।

কী নিয়ে পরিস্থিতি বিগড়ে গেল?

পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাতে দেবগঞ্জ এলাকার  কাপ্তানগঞ্জে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আলাদা আলাদা অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকার বাজানো ও ধর্মীয় পতাকা দেখানো নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী মধ্যে মারপিট শুরু হয়ে যায়।

শুরুতে বিষয়টি তর্কাতর্কির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও শীঘ্রই উভয়পক্ষ লাঠি হাতে রাস্তায় নেমে পড়ে একে অপরের উপর হামলা চালায়। একইসঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কাপ্তানগঞ্জ বাজার এলাকায় বাড়িঘর, চিকিৎসা কেন্দ্র, যানবাহনসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি বিগড়োতে শুরু করলে হস্তক্ষেপ করে নিরাপত্তা বাহিনী।

Advertisement

দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ও ওয়ার্নিং গুলি চালানো সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি পুলিশ। এরপর বাহিনীর তরফে  গুলি চালানো হলে মৃত্যু হয় ২৪ বছরের এক যুবকের। পুলিশের মতে, এই সংঘর্ষে নিরাপত্তাকর্মীসহ এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

 

POST A COMMENT
Advertisement