Israel Election 2026: ইজরায়েলে ভোট চলছে, নেতানিয়াহু বিদায় হলে কে হতে পারেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?

এ ক্ষেত্রে জানা জরুরি, নেতানিয়াহু বা তাঁর বিরোধী প্রার্থী ইজরায়েলের প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে সরাসরি বাছতে পারবেন না ইজরায়েলবাসী। বরং তাঁরা বাছতে পারবেন পার্টি। ১২০ আসনের নেসেটে অন্তত ৬১ জন জন নেসেট সদস্যকে একজোট করে সমর্থন দেখাতে পারলে ওই জোটের প্রধানকেই পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হবে।

Advertisement
ইজরায়েলে ভোট চলছে, নেতানিয়াহু বিদায় হলে কে হতে পারেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকোট
হাইলাইটস
  • নেতানিয়াহু কোন কোন কাজে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন?
  • নেতানিয়াহুকে সরতে হলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন?
  • ভোটের পরে কী হবে ইজরায়েলে?

ইজরায়েলে সংসদীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অতর্কিত হামলার সেই ঘটনার পরে এই প্রথমবার ভোট দিচ্ছে ইজরায়েল। এই ভোটের রেজাল্টের উপর নির্ভর করছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভবিষ্যত্‍। ৭ অক্টোবরের সেই হামলা ও তারপর থেকে দীর্ঘ যুদ্ধ, এই সবকিছুকে আদৌ খুশি ইজরায়েলবাসী? নেতানিয়াহুর কাজে মত জানাবে ইজরায়েল।  

ইজরায়েলের সংসদকে নেসেট বলা হয়। বর্তমান নেসেটের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১৭ জুলাই।  ২০১৯ সালে শেষবার ভোট হয়েছিল ইজরায়েলে। এই নিয়ে ষষ্ঠ নেসেট নির্বাচন। একই সঙ্গে ৩৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার ইজরায়েলে নেসেটের সম্পূর্ণ মেয়াদ শেষে ভোট হচ্ছে। ইজরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু চান, ভোটাররা হামাসের বিরুদ্ধে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান, হিজবুল্লাহর শক্তিক্ষয় এবং ইরানের উপর চালানো হামলার কথা মনে রাখুন ভোট দেওয়ার সময়। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর বিরোধীরা ভোটারদের মনে করিয়ে দিতে চাইছেন, কীভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলা চালাতে পেরেছিল হামাস। সেই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করতেও অস্বীকার করেছেন নেতানিয়াহু।

এ ক্ষেত্রে জানা জরুরি, নেতানিয়াহু বা তাঁর বিরোধী প্রার্থী ইজরায়েলের প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে সরাসরি বাছতে পারবেন না ইজরায়েলবাসী। বরং তাঁরা বাছতে পারবেন পার্টি। ১২০ আসনের নেসেটে অন্তত ৬১ জন জন নেসেট সদস্যকে একজোট করে সমর্থন দেখাতে পারলে ওই জোটের প্রধানকেই পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হবে।

শেষ দফার জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর বিরোধী শিবির তাঁর সঙ্গীদের তুলনায় বেশি আসন পেতে পারে। তবে আদর্শগত মতপার্থক্য, নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং আরব দলগুলির সঙ্গে জোট গঠন করা উচিত কি না, তা নিয়ে বিরোধীদের মধ্যেও বিভাজন রয়েছে। ফলে ভোটের লড়াইয়ে নেতানিয়াহুকে হারাতে পারলেও, শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে বিরোধীরা ব্যর্থ হতে পারে।

নেতানিয়াহু কোন কোন কাজে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন?

Advertisement

১৮ বছরের বেশি সময় ধরে ইজরায়েলে প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনবার জয়ী হয়েছেন। এ বারেও তিনি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী। ইজরায়েলে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াইয়ের জন্য কোনও টার্ম বা বয়স সীমা নেই। নেতানিয়াহুর কাছে এই নির্বাচন শুধুমাত্র আরও এক দফা প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার লড়াই নয়। ইজরায়েলের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ নিরাপত্তা সঙ্কট কীভাবে তিনি সামলেছেন, সেই মূল্যায়নও নির্ধারিত হবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা থেকে ভোটারদের নজর সরিয়ে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছেন নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে তিনি ইজরায়েলের শত্রুদের দুর্বল করেছেন এবং হামাসের হামলায় ভেঙে পড়া দেশের প্রতিরোধক্ষমতা ফের প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, সামরিক সাফল্য দিয়ে প্রাথমিক ব্যর্থতার দায় মুছে ফেলা যায় না। নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু। ৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে সরকারি তদন্ত আটকে রেখেছেন এবং পণবন্দিদের মুক্ত করতে আগেই চুক্তি করার সুযোগও হাতছাড়া করেছেন তিনি।

অনেক ভোটারের কাছেই ৭ অক্টোবরের হামলাই এখনও সব হিসেবের মূলে। ইজরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৬৮ শতাংশ ইহুদি ইজরায়েলি মনে করেন, কোন দলকে ভোট দেবেন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ওই হামলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে, আরব ইজরায়েলিদের কাছে নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যে অপরাধের বাড়বাড়ন্ত আরও বেশি উদ্বেগের বিষয়। এই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে নেতানিয়াহুর অতি-দক্ষিণপন্থী ও আল্ট্রা-অর্থডক্স মিত্রদের হাতে কতটা ক্ষমতা থাকবে। সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ, বিচারব্যবস্থা, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ এবং গাজা নিয়ে ইজরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ, এই সব ক্ষেত্রেই তাঁদের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নেতানিয়াহুকে সরতে হলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন?

নেতানিয়াহুর মূল প্রতিপক্ষ হলেন গাদি আইজেনকোট। অক্টোবরের হামলার পর তৈরি হওয়া ইজরায়েলের জরুরি সরকারে যোগ দিয়েছিলেন গাদি আইজেনকোট। তবে গাজা যুদ্ধ কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে পরে সেই সরকার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। আইজেনকোটের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় জাতীয় নিরাপত্তা এবং হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় নির্ধারণ। তাঁর প্রতিশ্রুতি, ক্ষমতায় এলে ৭ অক্টোবরের হামলার পিছনে থাকা ব্যর্থতাগুলি খতিয়ে দেখতে একটি সরকারি তদন্ত কমিশন গঠন করবেন।

গাজা যুদ্ধ আইজেনকোটের ব্যক্তিগত জীবনেও গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। গাজায় ইজরায়েলি সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় তাঁর ছেলে এবং দুই ভাইপোর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মৃত্যু ইজরায়েলের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরও সমানভাবে ভাগ করে নেওয়ার দাবিতে আইজেনকোটের বক্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

ভোটের পরে কী হবে ইজরায়েলে?

নেতানিয়াহুর জয় এবং লিকুদ ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত মিত্রদের সম্মিলিত আসনসংখ্যা ৬১-তে পৌঁছে যাওয়া তাত্‍পর্যপূর্ণ ঘটনা হতে পারে। জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে ছোট ছোট দক্ষিণপন্থী দলগুলি প্রত্যাশার চেয়ে ভাল ফল না করলে এই লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হতে পারে। আইজেনকোটের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে তাতে ইয়াশার, বিয়াখাদ, ইজরায়েল বেইতেনু এবং ডেমোক্র্যাটস, এই দলগুলি একজোট হতে পারে। কিন্তু বর্তমান আসনভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সরকার গড়ার জন্য তাদের আরও একটি দলের সমর্থন অথবা আরব সাংসদদের সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে।

নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের মধ্যে সমঝোতা হলে প্রধানমন্ত্রী পদ, ৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে তদন্ত, সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এবং বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের মতো বিষয়ে কঠিন সমঝোতায় পৌঁছতে হবে। আরব দলগুলির বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে বিরোধীরা সংখ্যালঘু সরকার গঠন করলেও তা অস্থির হতে পারে। দলের ভিতরে মতপার্থক্য, বিধায়কদের দলত্যাগ এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে বিরোধ সেই সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

কোনও পক্ষই যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারে, তা হলে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থেকে যেতে পারেন নেতানিয়াহু। সে ক্ষেত্রে ইজরায়েলে ফের নির্বাচন হতে পারে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বারবার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশটির। অতীতেও একাধিকবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়েছে ইজরায়েলে।

Advertisement

POST A COMMENT
Advertisement