ইমরান খানের মৃত্যু হয়েছে?কবে জেল থেকে মুক্তি পাবেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা ক্রিকেটার ইমরান খান? এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে একাংশের পাক জনতার মধ্যে। আর এমনই সময়ই আবার তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। আসলে পাকিস্তানের সাংবাদিক ওয়াজাহাত সৈয়দ খান এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। এমি নমিনেটেড এই সাংবাদিক বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনজন সিনিয়র ডিফেন্স সূত্র তাঁকে জানিয়েছেন, ইমরান খান জেলেই মারা গিয়ে থাকতে পারেন। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও প্রমাণিত নয়।
আর ওয়াজাহাতের এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। মঙ্গলবার ইমরান খানের পরিবার এবং তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর নেতারা অভিযোগ করেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
আর এমন পরিস্থিতিতে ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যার ফলে সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়ছে। এই অবস্থায় হুঙ্কার দিয়েছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী তথা পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি। তাঁর দাবি, ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এমনটা চলতে থাকলে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।
পিটিআই ইতিমধ্যেই আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদের দিকে লং মার্চের ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয়, এর আগে পরিবার এবং চিকিৎসকদের ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
ও দিকে বন্দি ইমরানকে নিয়ে পাকিস্তানের উপর বাইরে থেকেও চাপ বাড়ছে। আমেরিকার ১৩ জন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার একটি দল মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি লিখেছেন। তারা ইসলামাবাদের সঙ্গে ইমরান খান এবং তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির বন্দিদশা নিয়ে সরাসরি আলোচনা করার আর্জি জানিয়েছেন।
কেন জেলে ইমরান খান?
প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট ২০২৩ থেকে জেলে বন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বর্তমানে তিনি ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের সাজা কাটাচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে একই মামলায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দু’জনেই সাজাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
এর পাশাপাশি, ২০২৩ সালের ৯ মে-র হিংসাত্মক বিক্ষোভের ঘটনাতেও ইমরানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। ওই সময় পিটিআই সমর্থকদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বিভিন্ন সেনা ঘাঁটি, গ্যারিসন ও সেনা পোস্টে হামলার অভিযোগ উঠেছিল।
ইমরানের মৃত্যুর দাবি...
ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে মাঝে মধ্যেই উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। বিশেষত, পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সৈয়দ খানের বক্তব্যের পর বিষয়টা নিয়ে আরও জলঘোলা হতে শুরু করেছে।
১০ অগাস্ট নিজের ইউটিউব চ্যানেলের একটি ভিডিওতে ওয়াজাহাত দাবি করেন, ইমারান খান আর বেঁচে নেই। তিনি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত সিনিয়র আধিকারিকদের সূত্র থেকে খবর পেয়েছেন। তবে ওই আধিকারিকরা নিজের চোখে কিছু দেখেননি। তাঁদের কাছে সরাসরি কোনও নিশ্চিত প্রমাণ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন। তাই এই দাবি যে কতটা সত্যি, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।