ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ঝামেলা থামার নাম নেই। এমন পরিস্থিতিতে ইরান সতর্ক করে বলেছে, আমেরিকা যেন নতুন করে কোনও হুমকি না দেয়। নইলে তার জবাব হবে ‘ধ্বংসাত্মক’।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনও দমবার পাত্র নয়। তারাও তেহরানের উপর ইতিহাসের ‘সবচেয়ে কঠোর’ আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আমেরিকার দাবি, এই নয়া কৌশলের মাধ্যমেই ইরানের উপর চাপ বাড়ান হবে। এর মাধ্যমেই দেশটির নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, সোমবার নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা সকলের সামনে বিস্তারিতভাবে ঘোষণা করা হবে।
ওদিকে আবার হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি জানিয়েছেন, যে সমস্ত দেশ ইরানকে আর্থিক বা অন্য কোনও ধরনের সাহায্য করবে, তাদেরও ভুগতে হবে।
প্রসঙ্গত, প্রায় ছয় মাস ধরে চলছে আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরান যুদ্ধ। এর প্রভাব পড়ছে তেহরানের অর্থনীতিতে। এমনকী তেল পরিবহণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বাড়ছে। তারপরও পরিস্থিতি ঠান্ডা হচ্ছে না। বরং হুঙ্কার ও পাল্টা হুঙ্কার আসছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি জানিয়েছেন, তেহরান একাধিক ক্ষেত্রে পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
ইরান ডিলের জন্য তৈরি নয়
ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে এখনও ডিল হয়নি। আর বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি শুক্রবার জানিয়েছেন, ইরান এখনও ‘সঠিক চুক্তি’ করার জন্য প্রস্তুত নয়। একইসঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ওয়াশিংটন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এই সময়ই হরমুজ নিয়েও মুখ খোলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'হরমুজ প্রণালীর গোটা অঞ্চলের উপর আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। প্রণালীটির অনেকটা ভিতরের স্থলভাগও এর আওতায় রয়েছে। তাই তারা একটি চুক্তি করতে চাইবে। কিন্তু আমার মতে, তারা সঠিক চুক্তি করার জন্য এখনও প্রস্তুত নয়।'
এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ক্যারোলিনার মার্টল বিচে এক সমাবেশেও ট্রাম্প ফের জানান, ইরানকে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।
হরমুজ নিয়ে উত্তেজনায় বাড়ছে তেলের দাম
শুক্রবার আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার হুমকির পর বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। আর এই দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৪.৩৯ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ডব্লুটিআই-এর দাম ব্যারেল প্রতি ৮৭.০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়তে পারে ভারতেও। এখানেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। আর সেটাই চিন্তার বিষয়।