
সৌরঝড় সূর্যে বড়সড় বিস্ফোরণের পর বিপুল পরিমাণ চার্জযুক্ত কণা পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে। বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস, সোমবার, ১৭ অগাস্ট এই সৌরঝড় পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে আঘাত করতে পারে।
ঘটনাটির সূত্রপাত ১৪ অগাস্ট। সূর্যের পৃষ্ঠে একটি বড় চৌম্বকীয় অংশ বিস্ফোরিত হয়। এর ফলে মহাকাশে প্রচুর পরিমাণে গরম, চৌম্বকীয় গ্যাস ছিটকে যায়। এই ঘটনাকে বলা হয় করোনাল মাস ইজেকশন বা CME।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই CME পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে সরাসরি আঘাত নাও করতে পারে। তবে এর কিছুটা অংশ পৃথিবীর পাশ ঘেঁষে গেলেও G1 শ্রেণির ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় তৈরি হতে পারে।
G1 হল সৌরঝড়ের সবচেয়ে দুর্বল স্তর। তাই সাধারণ মানুষের জন্য বড় কোনও বিপদের আশঙ্কা নেই। তবে এর প্রভাবে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে সাময়িক পরিবর্তন হতে পারে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল, এই সৌরঝড়ের কারণে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের উত্তরাঞ্চলে নর্দার্ন লাইটস বা অরোরা আরও উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিতে পারে।
সৌরঝড়ের প্রভাবে কখনও কখনও উপগ্রহ, রেডিও যোগাযোগ ও GPS-এর মতো নেভিগেশন ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যা হতে পারে। তবে এবারের ঝড় তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় বড় ধরনের সমস্যার আশঙ্কা করছেন না বিজ্ঞানীরা।

গত কয়েক মাস ধরে সূর্য যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছে। একের পর এক সৌরবিস্ফোরণ ও পৃথিবীমুখী CME দেখা যাচ্ছে। প্রায় ১১ বছর অন্তর সূর্যের কার্যকলাপ বাড়ে-কমে। বর্তমানে সূর্য সেই সক্রিয় পর্যায়ের মধ্যেই রয়েছে।
১৭ অগস্টের সৌরঝড়ের দিকে তাই নজর রাখছেন বিজ্ঞানীরা। এই ধরনের ছোট ঝড় পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী সৌরঝড়ের প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।