FlyDubai Co Pilot: স্মিতকে ছুরি মারা কো-পাইলট কে? বিমান ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলেন 'চরমপন্থী' ক্যাপ্টেন

ফ্লাইদুবাইয়ের সেই বিমানে স্মিত মচ্ছরকে ছুরি মারা কো-পাইলটের পরিচয় প্রকাশ্যে। হামলাকারী ওই পাইলট ওমানের বাসিন্দা, চরমপন্থী। তিনি বিমান ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলেন।

Advertisement
স্মিতকে ছুরি মারা কো-পাইলট কে? বিমান ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলেন 'চরমপন্থী' ক্যাপ্টেনফ্লাইদুবাইয়ের সেই কো-পাইলট কে?
হাইলাইটস
  • স্মিত মচ্ছরকে ছুরি মারা কো-পাইলটের পরিচয় প্রকাশ্যে
  • হামলাকারী ওই পাইলট ওমানের বাসিন্দা, চরমপন্থী
  • তিনি বিমান ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলেন

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের সেই বিমানে স্মিত মচ্ছরকে ছুরি মারা কো-পাইলটের পরিচয় প্রকাশ্যে। মাঝআকাশে ক্যাপ্টেনের উপর হামলা চালায় ওমানের হামাম আল-হাম্মামি। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই কো-পাইলটকে এর আগেও তাঁর আদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ওমানে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে ওমান অন্য কোনও দেশ বা বিমান সংস্থাকে সেই উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সৌদি সম্প্রচারমাধ্যম আল আরাবিয়ার দাবি অনুযায়ী, ওই কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামিকে ফ্লাইদুবাই নিয়োগ করেছিল। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের ‘ব়্যাডিক্যালাইজেশন’-এর অভিযোগ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

ABC News-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর ওমান এয়ারও তাঁকে আগে বিমান চালানো থেকে সাসপেন্ড করেছিল।

অন্যদিকে, i24NEWS English জানিয়েছে, তদন্তকারীদের কাছে ওই কো-পাইলট দাবি করেছেন, তিনি বিমানটিকে ইজরায়েলে ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলেন।

মাঝআকাশে ক্যাপ্টেনকে ছুরি, হঠাৎ নামতে শুরু করল বিমান
ঘটনাটি ঘটে ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এ। দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল বিমানটি। বিমানে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ১৭৪ জন ছিলেন। ইজরায়েলি ও সৌদি আধিকারিকদের মতে, উড়ানের মাঝেই কো-পাইলট ক্যাপ্টেনের উপর হামলা করেন এবং তাঁকে আহত করেন। এর ফলে ককপিটে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়।

রয়টার্সের পর্যালোচনা করা ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটি আচমকা তীব্রভাবে দিক পরিবর্তন করে এবং দু’বার দ্রুত নীচের দিকে নামতে থাকে। সবচেয়ে তীব্র অবতরণের সময় মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কিছু বেশি সময়ে বিমানটি ১৬ হাজার ফুটেরও নেমে যায়। পরে বিমানটি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এরপর বিমানটি জরুরি সঙ্কেত পাঠায়। ইজরায়েলের দিকে না গিয়ে বিমানটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। ইজরায়েলি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কো-পাইলট বিমানটিকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তাঁর উদ্দেশ্য বা হামলার সঠিক কারণ সম্পর্কে তদন্তকারীরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছননি।

Advertisement

যাত্রীরাই কাবু করেন কো-পাইলটকে
জরুরি পরিস্থিতির মধ্যে আহত ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে কো-পাইলটকে ধরে ফেলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাঁকে কেবল তার দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। বিমানে থাকা এক চিকিৎসক আহত ক্যাপ্টেনের চিকিৎসা করেন। ওই বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের দুই অফ-ডিউটি পাইলট পরে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেন। তাঁদের সাহায্যেই বিমানটি নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করে বলে আধিকারিক ও যাত্রীদের বক্তব্য।

হামলার নেপথ্যের কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, কো-পাইলট ‘ইসলামিক চরমপন্থী মতাদর্শে’ প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং তাঁর মধ্যে আত্মহত্যাপ্রবণতার লক্ষণ ছিল। তবে এই দাবির সমর্থনে তিনি কোনও প্রমাণ প্রকাশ করেননি।

শুক্রবার পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, 'তদন্ত চলছে, ওই ব্যক্তি কারও নির্দেশে কাজ করেছিলেন কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ তাঁকে পাঠিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' ইজরায়েলি নিরাপত্তা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তাঁদের ধারণা ওই পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। তবে তদন্ত এখনও চলছে।

বিমান নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন
এই ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ইজরায়েলগামী বিমানে কাজ করা পাইলট ও অন্যান্য ক্রুদের নিরাপত্তা যাচাই এবং নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেছেন, 'কীভাবে একজন ওমানি পাইলটকে তেল আভিভগামী বিমানে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হল, সেই গাফিলতি কার, খতিয়ে দেখা হবে।' ফ্লাইদুবাই শুক্রবার জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে রেজিস্টার্ড হওয়ায় তদন্ত চলছে সে দেশেই। ইজরায়েলও বৃহত্তর তদন্তে অংশ নিতে পারে বলে জানিয়েছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement