Nobel Peace Prize 2026: নোবেল না পেয়ে গোঁসা ট্রাম্পের, আন্তর্জাতিক আদালতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের

দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী নভানেথেম নভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতায় গোঁসা হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। নোবেল শান্তি পুরস্কারের এক এবং একমাত্র দাবিদার তিনি নিজে। এমনটাই মনে করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। আর তাই সরাসরি আন্তর্জাতিক আদালতের উপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ফেললেন।

Advertisement
নোবেল না পেয়ে গোঁসা ট্রাম্পের, আন্তর্জাতিক আদালতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ডোনাল্ড ট্রাম্প, নভি পিল্লাই
হাইলাইটস
  • নভানেথেম নভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতায় গোঁসা
  • আন্তর্জাতিক আদালতের উপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ ট্রাম্পের
  • শান্তি পুরস্কারের একমাত্র দাবিদার তিনি নিজে, মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

নোবেল শান্তি পুরস্কারের এক এবং একমাত্র দাবিদার তিনি নিজে। এমনটাই মনে করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই ২০২৬ সালে এই সম্মান দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী নভানেথেম নভি পিল্লাই জেতায় গোঁসা হয়েছে তাঁর। তবে শুরু রাগ করে বসে থাকার মানুষ তো তিনি নন। তাই ক্ষমতার বলে সরাসরি আন্তর্জাতিক আদালত ও তার কার্যকলাপের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, আন্তর্জাতিক আদালত একটি বিপথগামী প্রতিষ্ঠান। সেটিকে আগামী দিনে ধ্বংস করারও হুমকি দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রপ্রধানের এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও বলেন, 'ICC-র সঙ্গে মার্কিন সংস্থাগুলির যাবতীয় যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য, আমেরিকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।'

তবে কেবল নোবেল পাননি বলে নয়, এর আগেও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ তদন্তের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত এই আন্তর্জাতিক আদালতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ট্রাম্প। গত দু’বছরে তাঁর সরকার বিভিন্ন দফায় ICC-র ১৭ জন আধিকারিকের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তালিকায় রয়েছেন ৯ জন বিচারক এবং প্রধান প্রসিকিউটর। এমনকী বাদ রাখা হয়নি ICC-র প্রেসিডেন্ট তেমোকো আকানকেও। 

আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়াও দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত। তাদের বক্তব্য, 'এই পদক্ষেপগুলি হল আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলার ভিত্তির উপর পরিকল্পিত আক্রমণ।' ICC-র ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামিম খান বলেন, 'মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কোপে পড়লেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাজ বন্ধ হবে না।'

নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্ত নভি পিল্লাই ১৯৯৫ সালে রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক নিযুক্ত হন। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক ছিলেন। সেই সময় যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জঁ-পল আকায়েসুর মামলায় ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক রায়ে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ধর্ষণ ও যৌনহিংসাকে গণহত্যার অপরাধ হিসেবে গণ্য করে নজির গড়েন তিনি। আন্তর্জাতিক আইনের ইতিহাসে ওই রায় নারী অধিকার রক্ষায় সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত। 

Advertisement

এছাড়াও মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের মামলার বিচারক ছিলেন নভি পিল্লাই। অধিকৃত প্যালেস্টাইনি ভূখণ্ড সংক্রান্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। 

 

POST A COMMENT
Advertisement