লক্ষ্য মার্কিন ডলারের উপ নির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা। দিল্লিতে এসে এমনই বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশ্কিয়ান।BRICS Summit India: আমেরিকার একচেটিয়া সিদ্ধান্ত এবং নিষেধাজ্ঞার রাজনীতি। তারই বিরুদ্ধে জোট বাঁধতে চায় BRICS। লক্ষ্য মার্কিন ডলারের উপ নির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা। দিল্লিতে এসে এমনই বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশ্কিয়ান। BRICS সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন তিনি। সেই সময়েই ‘আজ তক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আমেরিকার নীতির তীব্র সমালোচনা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের ফরেন অ্যাফেয়ার্স এডিটর গীতা মোহনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশ্কিয়ান বলেন, BRICS-এর অন্যতম লক্ষ্য হল একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি করা। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকা নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়। এই ধরনের একতরফা নীতির মোকাবিলা করতে BRICS দেশগুলি একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে একজোট BRICS
ইরানের প্রেসিডেন্টের কথায়, BRICS-এর সদস্য দেশগুলির মধ্যে কো-অর্ডিনেশনের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে একে অপরকে সাহায্য করা যেতে পারে। বিশেষ করে বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জোটের দেশগুলি নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে পারে।
পেজেশ্কিয়ান মনে করেন, শুধু কোনও একটি দেশের উপর নির্ভরশীল না থেকে একাধিক দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করা প্রয়োজন। সেই জায়গা থেকেই BRICS-এর গুরুত্ব বাড়ছে বলে তাঁর বক্তব্য।
ডলারের উপর নির্ভরতা কমানো
ইরানের প্রেসিডেন্টের দাবি, বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশ আমেরিকার ডলারের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। সেই নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে ডলার নির্ভরশীলতা একদিনে শেষ করা সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন পেজেশ্কিয়ান। তাঁর মতে, বড় কোনও পরিবর্তন আনতে সময় লাগে। BRICS-এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেই পথ তৈরি করা যেতে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, বিশ্বের অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে এককেন্দ্রিক রাখা উচিত নয়। অর্থাৎ একটি দেশের হাতে যেন অতিরিক্ত ক্ষমতা না থাকে। BRICS-এর মাধ্যমে আরও বহুমুখী বা বহুকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।
ভারত, চিন, রাশিয়াকে নিয়ে কী বললেন?
পেজেশ্কিয়ানের বক্তব্যে ভারত, চিন এবং রাশিয়ার মতো বড় দেশগুলির কথাও উঠে এসেছে। তাঁর মতে, এই দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়লে BRICS আরও শক্তিশালী হতে পারে। বিনিয়োগ থেকে শুরু করে বাণিজ্য; একাধিক ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
এর ফলে আমেরিকাকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে নতুন বিকল্প তৈরি হতে পারে বলেও তাঁর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলেছে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও বার্তা
ভারতের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন পেজেশ্কিয়ান। তাঁর দাবি, দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ আরও ভাল হচ্ছে। ভারত এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘ দিনের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এটাই পেজেশ্কিয়ানের প্রথম BRICS শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর। ফলে তাঁর এই সফর কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।