Pakistan Split: টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান! ৪ প্রদেশকে ভেঙে ১৬০টি করার প্ল্যান আসিম মুনিরের?

পাকিস্তান নিয়ে আসিম মুনিরের নয়া পরিকল্পনা। পাকিস্তানের বড় ৪টি প্রদেশকে টুকরো টুকরো করে ভেঙে দিতে চান আসিম মুনির। কেন এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে?

Advertisement
টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান! ৪ প্রদেশকে ভেঙে ১৬০টি করার প্ল্যান আসিম মুনিরের?৪টি প্রদেশকে ভেঙে ১৬০টি করার প্ল্যান আসিম মুনিরের?
হাইলাইটস
  • বদলে যেতে পারে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ম্যাপ।
  • আসিম মুনির পাকিস্তানের চারটি প্রধান প্রদেশকে ছোট ছোট রাজ্যে ভাগ করার পরিকল্পনা করছেন।
  • এটি দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে দিতে পারে।

বদলে যেতে পারে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ম্যাপ। একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির পাকিস্তানের চারটি প্রধান প্রদেশকে ছোট ছোট রাজ্যে ভাগ করার পরিকল্পনা করছেন। এর ফলে ১২ থেকে ১৫টি নতুন প্রদেশ বা ছোট ছোট রাজ্য তৈরি হতে পারে। অথবা ১৬০টি ক্ষুদ্রতর অঞ্চলেও ভেঙে যেতে পারে পাকিস্তান।

বর্তমানে পাকিস্তানে চারটি প্রদেশ রয়েছে: পঞ্জাব, সিন্ধু, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান। এগুলোর বিভাজন প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এর প্রভাব শুধু সরকারি কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে দিতে পারে।

পাকিস্তানের প্রদেশগুলিতে জনসংখ্যার বিশাল পার্থক্য

আসলে জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে পাকিস্তানের চারটি প্রদেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। পঞ্জাব দেশের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ, যেখানে প্রায় ১২৮ মিলিয়ন মানুষ বাস করে। যা পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। অন্যদিকে, বেলুচিস্তান আয়তনের দিক থেকে বৃহত্তম প্রদেশ হলেও, এর জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ১৫ মিলিয়ন।

দ্য ইকোনমিস্টের দাবি,  পঞ্জাবের মতো একটি বিশাল প্রদেশ পরিচালনা করাও বেশ কঠিন। গ্রামীণ এলাকায় সরকারি পরিষেবা পেতে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভ্রমণ করতে হতে পারে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পঞ্জাবের জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের কম মানুষ বাড়িতে নিয়মিত বিশুদ্ধ পানীয় জল পায়।

সেই কারণেই  সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের যুক্তি, বড় প্রদেশগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন। তবে, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য শুধু এর প্রশাসনিক কাঠামোই দায়ী নয়। দেশটি দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিপুল ঋণের বোঝায়ও জর্জরিত।

আবার পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশটির ইতিহাসের দুই-পঞ্চমাংশের বেশি সময় ধরে সামরিক বাহিনী সরাসরি ক্ষমতা ধরে রেখেছে। নির্বাচিত সরকারগুলোতে প্রায়ই সেনার প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর একটি রিপোর্টে সামরিক বাহিনীর এই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। 

Advertisement

এমন পরিস্থিতিতে, প্রদেশগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হলে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। যদি নতুন প্রদেশগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে সামরিক বাহিনী ও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে তাদের ওপর প্রভাব বজায় রাখা সহজ হতে পারে। 

অবশ্য, পাকিস্তানের প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তনের কথা আগেও উঠেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবাল ছোট ছোট প্রশাসনিক অঞ্চল এবং আরও বেশি প্রদেশের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এর মধ্যে ১২ থেকে ১৫টি প্রদেশ এবং ১৬০টি পর্যন্ত ছোট প্রশাসনিক অঞ্চল তৈরির ধারণাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার সেই পরিকল্পনা করছেন আসিম মুনিরই।


 

POST A COMMENT
Advertisement